infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কলকাতার সেই হোটেলে সরু সিঁড়ি-ঘুপচি ঘর, ছিল না জরুরি বহির্গমন পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ২০:০৮ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটিতে জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। একমাত্র সিঁড়িটিও ছিল অত্যন্ত সরু। আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ায় আবাসিকরা কোন পথে বের হবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বহুতল ভবনে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় আলাদা আলাদা আবাসিক ব্যবস্থা ছিল। ঘরগুলোও ছিল বেশ ছোট ও ঘুপচি। মঙ্গলবার রাতে ভবনটির তিনতলার একটি হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়।

আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো হোটেলে। ওই সময় অনেক আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য একটি মাত্র পথ ছিল, সেটিও ছিল সংকীর্ণ।

আবাসিকদের অভিযোগ, হোটেলে কোনো জরুরি বহির্গমন দরজা ছিল না। আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কেউ কেউ শৌচাগারে আশ্রয় নেন। পরে জানালা ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে আটকে পড়া আবাসিকদের উদ্ধার করেন।

এক আবাসিক বলেন, আগুন লাগার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের কাউকে দেখা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সময়মতো না এলে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানি হতে পারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বাংলাদেশি ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ সাধারণত ওই এলাকার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে অবস্থান করেন। আগুন লাগার সময়ও ওই ভবনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বেশ কয়েকজন ছিলেন।

ভবনের চারতলায় থাকা দুই বন্ধুর একজন ইজাজ আহমেদ জানান, তারা মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে সেখানে পৌঁছান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়ে।

ইজাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে বের হয়ে যে বারান্দায় যেতে হয়, সেটিও খুব সরু ছিল। এরই মধ্যে সেটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে বাইরে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ভবনের ওপরের তলায় বসবাসকারী একটি পরিবারকেও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার করেন। পরিবারের এক নারী অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় হোটেলগুলো কীভাবে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

স্থানীয় বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছেন, হোটেলগুলো বিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না। তার দাবি, আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি হোটেলের কক্ষের সংখ্যা বাড়াতে ভবনের পিলার কেটে জায়গা বাড়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় কলকাতার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


কলকাতার সেই হোটেলে সরু সিঁড়ি-ঘুপচি ঘর, ছিল না জরুরি বহির্গমন পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ২০:০৮ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটিতে জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। একমাত্র সিঁড়িটিও ছিল অত্যন্ত সরু। আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ায় আবাসিকরা কোন পথে বের হবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বহুতল ভবনে একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় আলাদা আলাদা আবাসিক ব্যবস্থা ছিল। ঘরগুলোও ছিল বেশ ছোট ও ঘুপচি। মঙ্গলবার রাতে ভবনটির তিনতলার একটি হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়।

আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো হোটেলে। ওই সময় অনেক আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য একটি মাত্র পথ ছিল, সেটিও ছিল সংকীর্ণ।

আবাসিকদের অভিযোগ, হোটেলে কোনো জরুরি বহির্গমন দরজা ছিল না। আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কেউ কেউ শৌচাগারে আশ্রয় নেন। পরে জানালা ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে আটকে পড়া আবাসিকদের উদ্ধার করেন।

এক আবাসিক বলেন, আগুন লাগার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের কাউকে দেখা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সময়মতো না এলে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানি হতে পারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বাংলাদেশি ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ সাধারণত ওই এলাকার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে অবস্থান করেন। আগুন লাগার সময়ও ওই ভবনে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বেশ কয়েকজন ছিলেন।

ভবনের চারতলায় থাকা দুই বন্ধুর একজন ইজাজ আহমেদ জানান, তারা মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে সেখানে পৌঁছান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়ে।

ইজাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে বের হয়ে যে বারান্দায় যেতে হয়, সেটিও খুব সরু ছিল। এরই মধ্যে সেটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে বাইরে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ভবনের ওপরের তলায় বসবাসকারী একটি পরিবারকেও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার করেন। পরিবারের এক নারী অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় হোটেলগুলো কীভাবে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

স্থানীয় বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছেন, হোটেলগুলো বিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না। তার দাবি, আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি হোটেলের কক্ষের সংখ্যা বাড়াতে ভবনের পিলার কেটে জায়গা বাড়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় কলকাতার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর