পাবনার ঈশ্বরদীতে সুদ, মাদক ও সন্ত্রাসীদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে বৈধ লাইসেন্স ও শটগান প্রদর্শন করে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রদল কর্মীর প্রতিবাদ
পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক, সুদের অবৈধ কারবার ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রশংসা পাওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা বাপ্পি আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্রটি থানায় জমা দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সার্বিক ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে তিনি একটি দায়িত্বশীল বিবৃতি দিয়েছেন। অস্ত্রটি স্বেচ্ছায় ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে থানায় জমা দেওয়ার পর তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
বিবৃতিতে বাপ্পি জানান, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জননিরাপত্তা রক্ষাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি ও তাঁর পরিবার যেন নিরাপদে থাকতে পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ থাকে, সে কারণেই তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার ইতিবাচক বার্তা:
থানায় যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে বাপ্পি বলেন, আমি সব সময় শান্তি ও নিয়মতান্ত্রিকতার পক্ষে। প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও পূর্ণ সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়েই আমি নিজে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে ঈশ্বরদী থানায় গিয়েছি। অস্ত্রটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সরকারি নীতিমালা মেনেই আমার নামে লাইসেন্স করা। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তা সংগ্রহ করা হলেও কাউকে ভয় দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আইনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতেই অস্ত্রটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
মাদক ও সুদের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান:
ঈশ্বরদী এলাকায় মাদক ও সুদের কারবার বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন বাপ্পি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে মাদক ও সুদের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইন ও প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা:
নিজেকে একজন আইনের অনুগত নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে বাপ্পি বলেন, আমি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করি না। যে কোনো বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তকে আমি স্বাগত জানাই। আমি চাই সত্য প্রকাশিত হোক এবং প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে সমাজ থেকে অপরাধ দূরীকরণে কাজ করুক।
আইনি দিক ও দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা:
দেশের প্রচলিত অস্ত্র আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আত্মরক্ষার স্বার্থে অস্ত্র সংরক্ষণ করতে পারেন এবং দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় তা থানায় জমাও দিতে পারেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন নাগরিক হিসেবে নিজ উদ্যোগে থানায় গিয়ে অস্ত্র জমা দেওয়া এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখা ইতিবাচক নাগরিক সচেতনতার পরিচয়।
বিবৃতির শেষে সাবেক ছাত্রদল নেতা বাপ্পি ঈশ্বরদীবাসীর সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা কামনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: