infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আ.লীগ আমলের ডিলারদের রাখতে চায় না টিসিবি, নতুন নীতিমালা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ২০:০৮ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের আর রাখতে চায় না ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ওই সময় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা ছিল না এবং অনেক ডিলার দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করেননি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ কারণে নতুন নীতিমালার আওতায় ডিলার নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এ তথ্য জানান। বৈঠকে টিসিবির ডিলার নিয়োগসহ সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিসিবির ডিলার নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ছিল না। একই সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। ফলে বিদ্যমান ডিলারদের পরিবর্তে নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে টিসিবি।

নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর এর আওতায় নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে টিসিবির কার্যক্রমে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি শুধু টিসিবির নির্ধারিত পণ্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্য আরও কিছু পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

টিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য বাজারে কম দামে পণ্য সরবরাহের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কত হয়েছে এবং এ সময়ে জরিমানা হিসেবে কত টাকা আদায় করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতা কমিশনে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা ও সেগুলোর বর্তমান অবস্থার তথ্যও চাওয়া হয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, মো. বরকত উল্লাহ বুলু, আবুল হোসেন খান, মো. আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আ.লীগ আমলের ডিলারদের রাখতে চায় না টিসিবি, নতুন নীতিমালা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ২০:০৮ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের আর রাখতে চায় না ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ওই সময় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা ছিল না এবং অনেক ডিলার দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করেননি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ কারণে নতুন নীতিমালার আওতায় ডিলার নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এ তথ্য জানান। বৈঠকে টিসিবির ডিলার নিয়োগসহ সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিসিবির ডিলার নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ছিল না। একই সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। ফলে বিদ্যমান ডিলারদের পরিবর্তে নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে টিসিবি।

নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর এর আওতায় নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে টিসিবির কার্যক্রমে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি শুধু টিসিবির নির্ধারিত পণ্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্য আরও কিছু পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

টিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য বাজারে কম দামে পণ্য সরবরাহের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কত হয়েছে এবং এ সময়ে জরিমানা হিসেবে কত টাকা আদায় করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতা কমিশনে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা ও সেগুলোর বর্তমান অবস্থার তথ্যও চাওয়া হয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, মো. বরকত উল্লাহ বুলু, আবুল হোসেন খান, মো. আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর