infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদ: জবানবন্দির পর মূলহোতাসহ ৭ আসামি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাত আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির এবং মো. তাহসীন ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের আদালতে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে একই মামলার প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবিরও ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে রিমান্ড শেষে একই মামলার অপর পাঁচ আসামি—মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান এবং মো. বায়োজিতকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে মামলার সব আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ নামে পরিচালিত একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, প্রশিক্ষণের আড়ালে সেখানে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান এবং মো. বায়োজিত। পরে তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত আসামির রিমান্ড আবেদন করলে ১২ জুলাই আদালত প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির ও মো. হোসাইন তানিমকে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদ: জবানবন্দির পর মূলহোতাসহ ৭ আসামি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাত আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির এবং মো. তাহসীন ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের আদালতে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে একই মামলার প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবিরও ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে রিমান্ড শেষে একই মামলার অপর পাঁচ আসামি—মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান এবং মো. বায়োজিতকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে মামলার সব আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ নামে পরিচালিত একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, প্রশিক্ষণের আড়ালে সেখানে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান এবং মো. বায়োজিত। পরে তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত আসামির রিমান্ড আবেদন করলে ১২ জুলাই আদালত প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির ও মো. হোসাইন তানিমকে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর