infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নীলফামারীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দ্বন্দ্ব, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি প্রধান শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, সহকর্মীর অসদাচরণের অভিযোগ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন।

তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ফারহানা সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ। তিনি ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং বি.এড.-এ প্রথম শ্রেণি অর্জন করেছেন। তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে দুইবার জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সরকারি শিক্ষা সফরে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সুযোগ লাভ করেন। তিনি নীলফামারী জেলার ইংরেজি মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের বালক দল জাতীয় পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২৯ জুন ২০২৬ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে তার দিকে মারতে তেড়ে আসেন, অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং চাকরি করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক সামনেই ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের আচরণ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে এবং কর্মস্থলে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক ৭ জুন থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পূর্বানুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া তিনি নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন যে, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত একটি প্রজেক্টর তিনি ১৫ জুন ২০১৯ তারিখে এবং একটি সাউন্ড সিস্টেম ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গ্রহণ করেন। প্রধান শিক্ষকের দাবি, সাউন্ড সিস্টেমটি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি এবং উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত চলাকালে বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। প্রজেক্টরটি এখনও বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জছিজুল আলম মন্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে।সেইসাথে তদন্তটি ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালে তিনি তার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ পাননি।

তার মতে, বিষয়টির সব দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনার সময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিনিময় হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন, সহকারী শিক্ষক অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন যে, ঘটনার পর বিভিন্নভাবে তাকে সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা বলেন, আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চাই না। আমি চাই একজন নারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিরাপদ, সম্মানজনক ও ভয়মুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা এবং আমার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত রবিউল ইসলাম বলেন,উক্ত তদন্ত হাতে পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছি।

প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশযোগ্য আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরি করে দাও। গুরুত্বপূর্ণ ৪-৫টা Keywords (Comma-separated) দেবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


নীলফামারীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দ্বন্দ্ব, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি প্রধান শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, সহকর্মীর অসদাচরণের অভিযোগ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন।

তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ফারহানা সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ। তিনি ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং বি.এড.-এ প্রথম শ্রেণি অর্জন করেছেন। তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে দুইবার জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সরকারি শিক্ষা সফরে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সুযোগ লাভ করেন। তিনি নীলফামারী জেলার ইংরেজি মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের বালক দল জাতীয় পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২৯ জুন ২০২৬ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে তার দিকে মারতে তেড়ে আসেন, অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং চাকরি করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক সামনেই ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের আচরণ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে এবং কর্মস্থলে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক ৭ জুন থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পূর্বানুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া তিনি নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন যে, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত একটি প্রজেক্টর তিনি ১৫ জুন ২০১৯ তারিখে এবং একটি সাউন্ড সিস্টেম ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গ্রহণ করেন। প্রধান শিক্ষকের দাবি, সাউন্ড সিস্টেমটি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি এবং উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত চলাকালে বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। প্রজেক্টরটি এখনও বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জছিজুল আলম মন্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে।সেইসাথে তদন্তটি ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালে তিনি তার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ পাননি।

তার মতে, বিষয়টির সব দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনার সময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিনিময় হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন, সহকারী শিক্ষক অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন যে, ঘটনার পর বিভিন্নভাবে তাকে সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা বলেন, আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চাই না। আমি চাই একজন নারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিরাপদ, সম্মানজনক ও ভয়মুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা এবং আমার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত রবিউল ইসলাম বলেন,উক্ত তদন্ত হাতে পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছি।

প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশযোগ্য আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরি করে দাও। গুরুত্বপূর্ণ ৪-৫টা Keywords (Comma-separated) দেবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর