infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকার’ অভিযোগ

বাধ্যতামূলক অবসরে যাচ্ছেন প্রশাসনের ৩৬ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকা’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রশাসনের ৩৬ জন কর্মকর্তাকে শিগগিরই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, তালিকায় বিসিএস ২০তম ব্যাচের ৩০ জন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ছাড়াও আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। বর্তমানে তারা অধিকাংশই বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত। সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দায়িত্ব পালনকারী বিসিএস ২১, ২২, ২৪, ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তার একটি প্রাথমিক তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তবে তাদের চাকরির বয়স এখনও ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অবসরের আওতায় আনা হচ্ছে না।

সরকারের এমন অবস্থানের ইঙ্গিত এর আগে জাতীয় সংসদেও দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। গত ৭ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে রাজনৈতিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা ৩৩ জন পুলিশ সুপারকে (এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। এছাড়া ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককেও একই ধরনের সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছিল।

নীতিনির্ধারণী সূত্রের দাবি, এবার যাদের অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব (পিএস-১) মনিরা বেগম ও পিএস-২ আল মামুন মোর্শেদ। এছাড়া বিভিন্ন জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক এবং জনপ্রশাসনের কয়েকজন যুগ্ম সচিব ও সংস্থাপ্রধানও তালিকায় রয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের ৩০ মে তাদের চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হলে তার অনুমোদন সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকার’ অভিযোগ

বাধ্যতামূলক অবসরে যাচ্ছেন প্রশাসনের ৩৬ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকা’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রশাসনের ৩৬ জন কর্মকর্তাকে শিগগিরই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, তালিকায় বিসিএস ২০তম ব্যাচের ৩০ জন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ছাড়াও আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। বর্তমানে তারা অধিকাংশই বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত। সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দায়িত্ব পালনকারী বিসিএস ২১, ২২, ২৪, ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তার একটি প্রাথমিক তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তবে তাদের চাকরির বয়স এখনও ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অবসরের আওতায় আনা হচ্ছে না।

সরকারের এমন অবস্থানের ইঙ্গিত এর আগে জাতীয় সংসদেও দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। গত ৭ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে রাজনৈতিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা ৩৩ জন পুলিশ সুপারকে (এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। এছাড়া ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককেও একই ধরনের সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছিল।

নীতিনির্ধারণী সূত্রের দাবি, এবার যাদের অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব (পিএস-১) মনিরা বেগম ও পিএস-২ আল মামুন মোর্শেদ। এছাড়া বিভিন্ন জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক এবং জনপ্রশাসনের কয়েকজন যুগ্ম সচিব ও সংস্থাপ্রধানও তালিকায় রয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের ৩০ মে তাদের চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হলে তার অনুমোদন সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর