infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইতিহাস পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগ; পরে নতুন প্রশ্নপত্র দিয়ে বাড়তি সময়, চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি কেন্দ্রে ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা চলার পর ভুল ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র বিতরণ করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করে পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে বেলা ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই প্রশ্নপত্রে অসংগতি তাদের নজরে আসে। তারা বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকদের জানালেও শুরুতে তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে ভুলবশত আগের বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, “আমাদের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। আমরা দুইটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। চারটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হওয়ার পর একজন শিক্ষক এসে নতুন প্রশ্নপত্র দেন। ততক্ষণে প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় চলে গেছে। এরপর আবার নতুন প্রশ্নে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এত অল্প সময়ে মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা অত্যন্ত কঠিন।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীর দাবি করেন, কেন্দ্রে সঠিক প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, “আমি বর্তমানে একটি সভায় রয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।”

ঘটনার পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক ভুলের কারণে তাদের মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ইতিহাস পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগ; পরে নতুন প্রশ্নপত্র দিয়ে বাড়তি সময়, চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি কেন্দ্রে ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা চলার পর ভুল ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র বিতরণ করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করে পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে বেলা ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই প্রশ্নপত্রে অসংগতি তাদের নজরে আসে। তারা বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকদের জানালেও শুরুতে তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে ভুলবশত আগের বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, “আমাদের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। আমরা দুইটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। চারটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হওয়ার পর একজন শিক্ষক এসে নতুন প্রশ্নপত্র দেন। ততক্ষণে প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় চলে গেছে। এরপর আবার নতুন প্রশ্নে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এত অল্প সময়ে মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা অত্যন্ত কঠিন।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীর দাবি করেন, কেন্দ্রে সঠিক প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, “আমি বর্তমানে একটি সভায় রয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।”

ঘটনার পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক ভুলের কারণে তাদের মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর