সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, যা পাওয়া গেল
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাটের একটি প্রায় ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং অন্যটি ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট আয়তনের। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট এবং গুলশান থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সেখানে থাকা মালামালের তালিকা প্রস্তুত করছে।
প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রীর তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ফ্ল্যাট দুটিতে ৩০০টি ব্লেজার, ৫৩২টি টাই, রোলেক্স ব্র্যান্ডের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বাক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজ পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রী ইনভেন্টরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী সোমবারও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তালিকা প্রস্তুত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রতিটি সামগ্রীর তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর আগে গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের এই দুটি ফ্ল্যাট ক্রোক (জব্দ) করার আদেশ দেন। পরবর্তীতে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে আদালত ‘রিসিভার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে প্রবেশ সম্ভব হচ্ছিল না।
পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২৯ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং সম্পদের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন। একই সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ভবনের ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে গুলশান রেভিনিউ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আদালত তার যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন। দেশের অভ্যন্তরে থাকা সম্পদের তালিকা তৈরির অংশ হিসেবেই গুলশানের ফ্ল্যাট দুটিতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: