‘৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে অলি আহমদই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন’
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারতেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন থেকে অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মূল বিষয় হিসেবে দেখছে না ১১ দলীয় ঐক্য। বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ফিরিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আওতায় আসত বলে দাবি করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারতেন এবং অলি আহমেদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রধান ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতির নির্বাচনও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।
‘আমরা গণতান্ত্রিক ধারাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে দেশকে নিয়ে যেতে চাই। দেশ পরিচালনার জন্য আমরা সেই উদ্যোগই গ্রহণ করেছি,’ বলেন তিনি।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ওই সময় সম্ভাবনার জায়গা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। ওই সংসদে জামায়াতের ১৮টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৫টি আসন ছিল। অন্য দলগুলোরও আসন ছিল।
তিনি বলেন, সে সময় বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্যরা একজোট হলে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই সম্ভাবনা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এবার বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একই ধরনের সম্ভাবনা না থাকলেও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করছে, সেটি জাতির সামনে তুলে ধরাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তার দাবি, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল এবং পরে গণভোটে জনগণও তাদের মতামত দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত—এমন মন্তব্য করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একদিকে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সেই অধিকারের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অলি আহমদ বীর বিক্রমের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনের সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, চাকরিতে আরও নয় বছর বাকি থাকলেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে অলি আহমদ রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি চারবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার দাবি, অলি আহমাদ একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিতর্ক নেই।
তিনি বলেন, অলি আহমদ পিএইচডিধারী, দক্ষ কর্মকর্তা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারতেন।
এর আগে রোববার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১১টায় অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে মনোনয়ন ফরম দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন হামিদুর রহমান আযাদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদকে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে সংসদ সদস্যদের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: