মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হতে পারেন রিজভী
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছে দলীয় একটি সূত্র। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি তাকে মনোনয়ন দিলে তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদও ছাড়তে হবে তাকে।
এ ছাড়া সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার সংসদ সদস্য পদও থাকবে না। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের পরবর্তী মহাসচিব নিয়েও আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে কাউন্সিলের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন বা না হন, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পরবর্তী কাউন্সিলের পর মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান বলে এর আগে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি মির্জা ফখরুল বলেছেন, তিনি খুবই ক্লান্ত এবং আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে অবসর নিতে চান। বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।
দলের অভ্যন্তরে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে তিন নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বর্তমান সরকারে তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। আর রুহুল কবির রিজভী মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনজনের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেশি আলোচিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা এবং দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।
তবে তিনি মহাসচিব হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে বলে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। কারণ দলীয় মহাসচিবের সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে বিএনপির একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করেন দলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিভাগীয় সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে মাঠপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়। মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলের পক্ষে তার দৃশ্যমান ভূমিকার কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি এবং বর্তমান মন্ত্রিসভাতেও তাকে রাখা হয়নি।
এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাবেন—এমন সম্ভাবনার কথা দলীয় সূত্রে বলা হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একইভাবে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে শেষ পর্যন্ত কারও নাম চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলেই দলের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: