infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, বিএনপিতেই ফিরতে চান শহীদ ইকবাল

মোঃ শাহ্ জালাল প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন মালয়েশিয়ায়। চিকিৎসা সেবা গ্রহণে যাওয়ার পূর্বে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করে দলীয় রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে নিজের ভুল হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে শহীদ ইকবাল একাধিকবার মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে শহীদ ইকবাল বলেন, ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন তিনি। এরপর জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণ এবং দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

তিনি বলেন, মণিরামপুরের মানুষের সেবা করাই তার জীবনের ব্রত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, কবরস্থান ও শ্মশানঘাটসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মণিরামপুরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজারো নেতাকর্মী সমর্থকদের আবেগ ও চাপের মুখে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হয়ত আমার ভূল ছিল। আর সে ভূলের খেসারত ব্যক্তিগতভাবে আমাকে দিতে হচ্ছে। আর সে কারনে আমি আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ নীতি নির্ধারনী ফোরামের কাছে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে পুনরায় দলের কাজ করার সুযোগ দেন, তাহলে মণিরামপুরে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে আরো শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

তার এই আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত মানুষের চোখে পানি চলে আসে। এক পর্যায়ে তিনি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি পূর্ন আস্থা রেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামসহ সকল প্রয়াত নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দর সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৪ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রথমে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয় শহীদ ইকবাল হোসেনকে। হঠাৎ করে ২৪ ডিসেম্বর শহীদ ইকবালকে পরিবর্তন করে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয় জোটের শরিক জমিয়তে উলমায়ে ইসলামের রশিদ আহমদকে।

এরপর শহীদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুলের সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা হয় তার। বিজয়ী হন জামায়াতের গাজী এনামুল হক। আর ধানের শীষের প্রার্থী রশিদ হন তৃতীয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কারনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, বিএনপিতেই ফিরতে চান শহীদ ইকবাল

মোঃ শাহ্ জালাল

প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন মালয়েশিয়ায়। চিকিৎসা সেবা গ্রহণে যাওয়ার পূর্বে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করে দলীয় রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে নিজের ভুল হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে শহীদ ইকবাল একাধিকবার মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে শহীদ ইকবাল বলেন, ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন তিনি। এরপর জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণ এবং দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

তিনি বলেন, মণিরামপুরের মানুষের সেবা করাই তার জীবনের ব্রত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, কবরস্থান ও শ্মশানঘাটসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মণিরামপুরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজারো নেতাকর্মী সমর্থকদের আবেগ ও চাপের মুখে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হয়ত আমার ভূল ছিল। আর সে ভূলের খেসারত ব্যক্তিগতভাবে আমাকে দিতে হচ্ছে। আর সে কারনে আমি আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ নীতি নির্ধারনী ফোরামের কাছে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে পুনরায় দলের কাজ করার সুযোগ দেন, তাহলে মণিরামপুরে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে আরো শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

তার এই আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত মানুষের চোখে পানি চলে আসে। এক পর্যায়ে তিনি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি পূর্ন আস্থা রেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামসহ সকল প্রয়াত নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দর সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৪ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রথমে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয় শহীদ ইকবাল হোসেনকে। হঠাৎ করে ২৪ ডিসেম্বর শহীদ ইকবালকে পরিবর্তন করে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয় জোটের শরিক জমিয়তে উলমায়ে ইসলামের রশিদ আহমদকে।

এরপর শহীদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুলের সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা হয় তার। বিজয়ী হন জামায়াতের গাজী এনামুল হক। আর ধানের শীষের প্রার্থী রশিদ হন তৃতীয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কারনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর