infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘আওয়ামী লীগে এখন চোরচোট্টাদের আধিপত্য’: রাশেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

১. চোরচোট্টাদের আধিপত্য: আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণ ও নেতৃত্বে এখন দুর্নীতিবাজ এবং অসৎ চোরচোট্টা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২. যোগ্য নেতৃত্বের অভাব: নিজের ক্ষমতায় বা যোগ্যতায় আওয়ামী লীগে কোনো নেতা তৈরি হয়নি। দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ‘গাধা’ বলে আখ্যায়িত করেন রাশেক রহমান।

৩. ভাড়াটে মানুষের মিছিল: বাংলাদেশে টাকা দিয়ে লোক বানিয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল করানো হয়; কোনো সচেতন বা প্রকৃত সমর্থক এতে অংশ নেন না।

৪. পলাতক শেখ হাসিনা ও অডিও রাজনীতি: ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। অডিও বার্তার রাজনীতি ও দিল্লির ভার্চুয়াল কর্মসূচির কোনো রাজনৈতিক গুরুত্ব বা ইমপ্যাক্ট নেই।

৫. শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিবেশ নেই: ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি ফিরলে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নামানোর মতো সাংগঠনিক ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের নেই।

৬. কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও ফেক নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সারজিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের খবরকে ‘ফেইক নিউজ’ উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বিএনপি সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে ভারতকে পরামর্শ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা এবং দলের ভেতরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে এক ইউটিউব টকশোতে নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দলটির নেতা রাশেক রহমান। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগ্য বা ত্যাগী কোনো নেতৃত্ব নেই; বরং পুরো দলজুড়ে এখন ‘চোরচোট্টাদের’ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রাশেক রহমানের এই মন্তব্য আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কলহ এবং তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বের চরম সংকটকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে।

দলে দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও যোগ্য নেতৃত্বের হাহাকার

সাক্ষাৎকারে রাশেক রহমান সরাসরি দলের বর্তমান হালচাল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগে চোর ও দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। ফলে দলের দুঃসময়ে হাল ধরার মতো কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বা যোগ্য নেতা মাঠে নেই।

তিনি মন্তব্য করেন, “নিজের যোগ্যতায় আওয়ামী লীগে কোনো নেতা উঠে আসেনি।” দল চালাতে যাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, এদের কোনো সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই এবং এরা চরম গাধামির পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

ভাড়াটে মিছিল ও মূল জনবিচ্ছিন্নতা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্মসূচির সমালোচনা করে এই নেতা জানান, এখন টাকা ছিটিয়ে মিছিল করার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। সাধারণ মানুষ বা প্রকৃত সমর্থকরা রাজপথে নামছেন না। কেবল টাকার বিনিময়ে লোক এনে সভা-সমাবেশ বা মিছিলের কৃত্রিম প্রদর্শনী করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে দলটিকে আরও ধসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

শেখ হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রাশেক রহমান বলেন, "শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মতো পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।" তাঁর মতে, দল যেভাবে নেতৃত্বহীন ও দুর্নীতিগ্রস্তদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, তাতে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশে ফিরলেও তাঁকে স্বাগত জানাতে বা সুরক্ষা দিতে লাখ লাখ কোটি কোটি লোক মাঠে নামানোর মতো কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি অবশিষ্ট নেই।

এছাড়াও ৫ই আগস্ট দিল্লিতে সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) শেখ হাসিনার রেকর্ডকৃত বার্তা বাজানো নিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শেখ হাসিনা সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়ে কেবল অডিও বার্তা দেওয়ায় সাধারণ কর্মী ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানামুখী সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে, যার কোনো ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


‘আওয়ামী লীগে এখন চোরচোট্টাদের আধিপত্য’: রাশেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

১. চোরচোট্টাদের আধিপত্য: আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণ ও নেতৃত্বে এখন দুর্নীতিবাজ এবং অসৎ চোরচোট্টা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২. যোগ্য নেতৃত্বের অভাব: নিজের ক্ষমতায় বা যোগ্যতায় আওয়ামী লীগে কোনো নেতা তৈরি হয়নি। দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ‘গাধা’ বলে আখ্যায়িত করেন রাশেক রহমান।

৩. ভাড়াটে মানুষের মিছিল: বাংলাদেশে টাকা দিয়ে লোক বানিয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল করানো হয়; কোনো সচেতন বা প্রকৃত সমর্থক এতে অংশ নেন না।

৪. পলাতক শেখ হাসিনা ও অডিও রাজনীতি: ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। অডিও বার্তার রাজনীতি ও দিল্লির ভার্চুয়াল কর্মসূচির কোনো রাজনৈতিক গুরুত্ব বা ইমপ্যাক্ট নেই।

৫. শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিবেশ নেই: ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি ফিরলে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নামানোর মতো সাংগঠনিক ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের নেই।

৬. কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও ফেক নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সারজিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের খবরকে ‘ফেইক নিউজ’ উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বিএনপি সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে ভারতকে পরামর্শ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা এবং দলের ভেতরের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে এক ইউটিউব টকশোতে নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দলটির নেতা রাশেক রহমান। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগ্য বা ত্যাগী কোনো নেতৃত্ব নেই; বরং পুরো দলজুড়ে এখন ‘চোরচোট্টাদের’ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রাশেক রহমানের এই মন্তব্য আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কলহ এবং তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বের চরম সংকটকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে।

দলে দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও যোগ্য নেতৃত্বের হাহাকার

সাক্ষাৎকারে রাশেক রহমান সরাসরি দলের বর্তমান হালচাল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগে চোর ও দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। ফলে দলের দুঃসময়ে হাল ধরার মতো কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বা যোগ্য নেতা মাঠে নেই।

তিনি মন্তব্য করেন, “নিজের যোগ্যতায় আওয়ামী লীগে কোনো নেতা উঠে আসেনি।” দল চালাতে যাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, এদের কোনো সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই এবং এরা চরম গাধামির পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

ভাড়াটে মিছিল ও মূল জনবিচ্ছিন্নতা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্মসূচির সমালোচনা করে এই নেতা জানান, এখন টাকা ছিটিয়ে মিছিল করার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। সাধারণ মানুষ বা প্রকৃত সমর্থকরা রাজপথে নামছেন না। কেবল টাকার বিনিময়ে লোক এনে সভা-সমাবেশ বা মিছিলের কৃত্রিম প্রদর্শনী করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে দলটিকে আরও ধসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

শেখ হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রাশেক রহমান বলেন, "শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মতো পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।" তাঁর মতে, দল যেভাবে নেতৃত্বহীন ও দুর্নীতিগ্রস্তদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, তাতে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশে ফিরলেও তাঁকে স্বাগত জানাতে বা সুরক্ষা দিতে লাখ লাখ কোটি কোটি লোক মাঠে নামানোর মতো কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি অবশিষ্ট নেই।

এছাড়াও ৫ই আগস্ট দিল্লিতে সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) শেখ হাসিনার রেকর্ডকৃত বার্তা বাজানো নিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শেখ হাসিনা সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়ে কেবল অডিও বার্তা দেওয়ায় সাধারণ কর্মী ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানামুখী সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে, যার কোনো ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর