‘ছাত্রলীগ নেত্রী’ এখন ছাত্রদলে, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক
রাজশাহীতে ছাত্রদলের এক নেত্রীকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর এ বিতর্ক শুরু হয়। শনিবার (২২ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বাকযুদ্ধ চলছে দুই সংগঠনের নেতাদের।
ছাত্রদলের ওই নেত্রীর নাম প্রীতি চৌধুরী। তিনি রাজশাহী কলেজে বর্তমানে ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ছাত্রলীগের রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ফেসবুকে প্রীতি চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সঙ্গে প্রীতির অতীত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে তাঁকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিয়া লেখেন, 'বর্তমান রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নেত্রী এক সময় ছাত্রলীগ নেতাদের পা চেটে বেড়াইতো এবং রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের তার ভাই বলে দাবি করা সেই সুযোগ সন্ধানী মেয়ে এখন ছাত্রদল করে হাস্যকর।'
এর জবাবে প্রীতি চৌধুরী ফেসবুক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি প্রিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে প্রীতিও প্রিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে প্রিয়ার সঙ্গে তাঁর কথোপকথন-সংক্রান্ত আরও কিছু স্ক্রিনশট ও তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত দেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্টের পর অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদল। রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী কলেজে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রীতি চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ভয়ভীতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামানো যাবে না। প্রীতি চৌধুরীসহ সব ছাত্রীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলে জানান ছাত্রদলের এ নেতা।
এদিকে, শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পলাতক সভাপতি রাশিক দত্ত পৃথক এক পোস্টে প্রিয়া পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি লেখেন, কে কি বললো- কে কি করলে এই সব গায়ে নিও না। মানুষ বলবে মানুষের মুখ আছে। কিছু সময় নিরব থাকতে হয়- শুধু প্রস্তুত থাকো। তুমি আমাদের অহংকার- তুমি আমাদের গর্ব, তুমি আমাদের ছাত্রলীগের জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। সৎ থাকবে-ঈশ্বর আছেন তিনি বিচার করবেন। তুমি বাংলাদেশের কোটি কোটি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বোন এটাই তোমার শক্তি। আমার ছাত্রলীগের কর্মীদের একটা কথায় বলবো।
‘আমি রাশিক বেঁচে আছি। বহু কিছু তথ্য আমাদের কাছে আছে- তবে নোংরা মন মানুষিকতা আমাদের নেই- আমাদের সংগঠন সেই শিক্ষা আমাদের দেয়নি। আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শে বিশ্বাসী, আমরা কারো সম্মান হানী করতে চাই না। এবং করবো না।’
‘আমি রাশিক রাজপথে মোকাবেলা করবো সংগঠনের জন্য। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ বলেন আর ট্রেট বলেন, যাই বলেন- নোংরামি করেন না। এরপর সহ্য করবো না। আর আমার সম্পর্কে সবার কাছে ভালো ধারণা আছে আশা করি। সম্মানের সাথে সব শেষ হোক। সবাই ভালো থাকবেন।'

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: