infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র ১৪৩৩

জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা, কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব তৈরি এবং সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কাঠামো গঠন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ছায়া মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, শিগগিরই সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ছায়া মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে।

গত সোমবার ২৪ আগস্ট রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে এবং এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত মাসে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এর সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা রয়েছেন—এ বিষয়ে তিনি জানান, দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে, যাদের কেউ কেউ সংসদ সদস্য নন। সরকারের কর্মকাণ্ডকে জবাবদিহির আওতায় আনাই এই কাঠামোর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

দলীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে অনেকটা নীরবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাজেট এবং সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছেন। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিকল্প নীতিপ্রস্তাব তৈরির কাজও চলছে।

জামায়াতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিশ্লেষণের জন্য আলাদা টিমও গঠন করা হবে। এসব টিম সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, সিদ্ধান্ত, বাজেট ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী উপমন্ত্রী পর্যায়েও দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবেই এই কাঠামো গঠন করেছে। এতে দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদেরও যুক্ত করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাবেক ছাত্রশিবির নেতারাও ছায়া মন্ত্রিসভার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, প্রচলিত বিরোধী রাজনীতির ধারায় শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, বরং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, সরকারের নীতির বিকল্প প্রস্তাব তৈরি এবং সংসদে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছায়া মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, বিরোধী দল হিসেবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এমন কাঠামো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারলে সংসদে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও সংগঠিত আলোচনা ও জবাবদিহির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে ছায়া মন্ত্রিসভা কতটা তথ্যভিত্তিকভাবে সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দিতে পারে তার ওপর।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা, কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব তৈরি এবং সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কাঠামো গঠন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ছায়া মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, শিগগিরই সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ছায়া মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে।

গত সোমবার ২৪ আগস্ট রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে এবং এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত মাসে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এর সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।

ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা রয়েছেন—এ বিষয়ে তিনি জানান, দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে, যাদের কেউ কেউ সংসদ সদস্য নন। সরকারের কর্মকাণ্ডকে জবাবদিহির আওতায় আনাই এই কাঠামোর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

দলীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে অনেকটা নীরবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাজেট এবং সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছেন। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিকল্প নীতিপ্রস্তাব তৈরির কাজও চলছে।

জামায়াতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিশ্লেষণের জন্য আলাদা টিমও গঠন করা হবে। এসব টিম সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, সিদ্ধান্ত, বাজেট ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী উপমন্ত্রী পর্যায়েও দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবেই এই কাঠামো গঠন করেছে। এতে দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদেরও যুক্ত করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাবেক ছাত্রশিবির নেতারাও ছায়া মন্ত্রিসভার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, প্রচলিত বিরোধী রাজনীতির ধারায় শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, বরং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, সরকারের নীতির বিকল্প প্রস্তাব তৈরি এবং সংসদে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছায়া মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, বিরোধী দল হিসেবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এমন কাঠামো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারলে সংসদে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও সংগঠিত আলোচনা ও জবাবদিহির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে ছায়া মন্ত্রিসভা কতটা তথ্যভিত্তিকভাবে সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও বিকল্প নীতিপ্রস্তাব দিতে পারে তার ওপর।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর