infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাত্র উনিশেই ইতিহাসের শিখরে ইয়ামাল, বিশ্বকাপ জিতে মেসির উত্তরসূরি হওয়ার বার্তা

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

ফুটবল বিশ্বে ‘ওয়ান্ডার কিড’ হিসেবে পরিচিত লামিনে ইয়ামাল মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যা অনেক কিংবদন্তির কাছেও স্বপ্নের। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও নিজের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন স্পেনের এই বিস্ময় বালক। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিনয়ী আচরণেও তিনি জয় করে নিচ্ছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়।

বার্সেলোনার হয়ে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অভিষেক হয়েছিল ইয়ামালের। এরপর থেকে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গড়েছেন নতুন রেকর্ড। কখনো পেলের, কখনো লিওনেল মেসির সর্বকনিষ্ঠতার রেকর্ড স্পর্শ বা অতিক্রম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের একটি মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের মাঝেই ইয়ামাল এগিয়ে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে। হতাশ মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার সেই দৃশ্য অনেকের কাছেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে ফুটবলের নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই দৃশ্যের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০০৭ সালের একটি পুরোনো ছবি। তখন ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি ছোট্ট পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে বাথটাবে গোসল করাচ্ছেন। সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপজয়ী তারকা, আর মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের পর ফুটবলের নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।

১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ইউরো ও বিশ্বকাপ—দুই বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের শুরুতে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়লেও দ্রুত ফিরে এসে পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

স্পেনের জার্সিতে ইয়ামালের ধারাবাহিকতাও বিস্ময়কর। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেও হার দেখেননি। বড় টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে থেকে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে স্পেন। ইউরোপের কোনো ফুটবলারের জন্য এটি নতুন এক শতভাগ জয়ের রেকর্ড।

ফাইনালের পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইয়ামাল শুধু অসাধারণ প্রতিভাই নন, দলীয় স্বার্থে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকেন। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালই সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও প্রভাবশালী ফুটবল খেলেছেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের শিরোপা জিতে লামিনে ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু ভবিষ্যতের নন, বর্তমান সময়েরও অন্যতম সেরা ফুটবলার। সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আরও অসংখ্য রেকর্ড ও সাফল্য যোগ করে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


মাত্র উনিশেই ইতিহাসের শিখরে ইয়ামাল, বিশ্বকাপ জিতে মেসির উত্তরসূরি হওয়ার বার্তা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

ফুটবল বিশ্বে ‘ওয়ান্ডার কিড’ হিসেবে পরিচিত লামিনে ইয়ামাল মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যা অনেক কিংবদন্তির কাছেও স্বপ্নের। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও নিজের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন স্পেনের এই বিস্ময় বালক। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিনয়ী আচরণেও তিনি জয় করে নিচ্ছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়।

বার্সেলোনার হয়ে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অভিষেক হয়েছিল ইয়ামালের। এরপর থেকে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গড়েছেন নতুন রেকর্ড। কখনো পেলের, কখনো লিওনেল মেসির সর্বকনিষ্ঠতার রেকর্ড স্পর্শ বা অতিক্রম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের একটি মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের মাঝেই ইয়ামাল এগিয়ে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে। হতাশ মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার সেই দৃশ্য অনেকের কাছেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে ফুটবলের নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই দৃশ্যের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০০৭ সালের একটি পুরোনো ছবি। তখন ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি ছোট্ট পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে বাথটাবে গোসল করাচ্ছেন। সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপজয়ী তারকা, আর মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের পর ফুটবলের নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।

১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ইউরো ও বিশ্বকাপ—দুই বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের শুরুতে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়লেও দ্রুত ফিরে এসে পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

স্পেনের জার্সিতে ইয়ামালের ধারাবাহিকতাও বিস্ময়কর। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেও হার দেখেননি। বড় টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে থেকে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে স্পেন। ইউরোপের কোনো ফুটবলারের জন্য এটি নতুন এক শতভাগ জয়ের রেকর্ড।

ফাইনালের পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইয়ামাল শুধু অসাধারণ প্রতিভাই নন, দলীয় স্বার্থে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকেন। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামালই সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও প্রভাবশালী ফুটবল খেলেছেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের শিরোপা জিতে লামিনে ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু ভবিষ্যতের নন, বর্তমান সময়েরও অন্যতম সেরা ফুটবলার। সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আরও অসংখ্য রেকর্ড ও সাফল্য যোগ করে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর