নির্বাচন কর্মকর্তাকে পঁচা দই বিক্রি, মনিরামপুরে বনফুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে পঁচা দই বিক্রির অভিযোগে বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের একটি বিক্রয়কেন্দ্রকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নষ্ট দই বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে মনিরামপুর পৌরশহরের বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের বিক্রয়কেন্দ্রে এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামরুজ্জামান জানান, সোমবার জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম কবিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা মনিরামপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে অতিথি আপ্যায়নের জন্য স্থানীয় বনফুল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে তিনটি দই কেনা হয়। তবে দইয়ের প্যাকেট খোলার পর তীব্র পঁচা গন্ধ বের হলে উপস্থিত কর্মকর্তারা বিস্মিত ও বিব্রত হন।
ঘটনার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিক্রয়কেন্দ্রে পঁচা দই পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ উল্লেখ না থাকার প্রমাণও মেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন বলেন, নষ্ট খাদ্যপণ্য বিক্রি, মেয়াদ ও উৎপাদন তথ্যবিহীন পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আবু মুছা হৃদয়কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও একই বিক্রয়কেন্দ্রে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করেছে। সর্বশেষ অভিযানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে মোট পাঁচবার জরিমানার মুখে পড়তে হলো।
ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, বারবার জরিমানার পরও যদি অনিয়ম বন্ধ না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: