স্ত্রীকে হ-ত্যা-র পর সন্তান নিয়ে পালানো সেই ইমাম গ্রেপ্তার
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ বিছানায় ফেলে রেখে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
নিহত আয়েশা আক্তার (২৮) মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী গ্রেপ্তার মো. মুহাসিন মাতুব্বর (৩২) পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের ওমর আলী মাতুব্বরের ছেলে। তাদের ৪ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
পিবিআই এর প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, নিহত আয়েশার সঙ্গে স্বামী মুহাসিন মাতুব্বরের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিগত প্রায় ৬ মাস যাবৎ মুহসিন মাতব্বর তার স্ত্রী আছমা ও কন্যাকে নিয়ে পূর্ব বালিগাওঁ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। নিহত আছমার পূর্বে দুইবার বিয়ে হয়েছিল তবে বিষয়টি গোপন করার কারণে প্রায়ই স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে কলহ হতো। হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ৫ জুলাই এশার নামাজের পর আসামি বাসায় এসে দেখেন স্ত্রী আছমা পুরানো একটি জামা পরে আছেন। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মুহসিন তার স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় মেরে গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলে। পরে ঘটনার দিন বিগত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহসিন মাতুব্বর স্ত্রী আসমার কাছে সকালের নাস্তা রেডি না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার মাথা ব্যাথা। এই নিয়ে উভয়ের মাঝে পুনরায় তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে মুহসিন আছমার আগের বিয়ে নিয়ে গালিগালাজ করতে শুরু করে এবং আবারো মারধর করতে থাকেন। এ সময় স্ত্রীর গলা চেপে ধরে পেছনের দিকে দেয়ালে ধাক্কা দিলে সেখানে কাঠের পাটাতন থেকে আঘাত লেগে আছমা মারা যান। মুহসিন তখন মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আছমার মরদেহ ঝুলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মরদেহ ঝুলাতে না পেরে খাটের ওপর ফেলে রেখে তাদের ৪ বছরের কন্যা মায়েশাকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনায় নিহত আছমার ভাই মো. শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি বিশেষ টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ৮ জুলাই আসামি মো. মুহাসিন মাদবরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্ররণ করে। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে সে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানান উক্ত মামলার তদন্তকারী অফিসার রনি দেবনাথ।
পিবিআইয়ের মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়েশা আরা জাহান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: