infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বান্দরবানে পানি কমলেও কাটেনি বন্যার্তদের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

বান্দরবানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকটে ভুগছেন হাজারো মানুষ। বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্যও পানির সংকটে পড়েছে। বন্যায় আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে।

যেসব এলাকার বাসাবাড়ি থেকে পানি নেমেছে এবং বসবাসের উপযোগী হয়েছে, সেসব পরিবারের সদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে যাদের বাড়িঘর বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে বা ভেসে গেছে, তারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এদিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।

টানা ভারী বর্ষণের পর বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় বন্যার স্রোতে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় দুই জেলার মাঝে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন সংযোগ সড়কে পাহাড়ধস ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যান চলাচল এখনো ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগে এই পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে; পাহাড় ধসে পাঁচজন, পানিতে ভেসে এক শিশু। ২৬টি পয়েন্টে পাহাড় ধস হয়েছে। পুরো জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছে, আর পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবার। জেলা প্রশাসন থেকে এরইমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেটি প্রস্তুত হলে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

উল্লেখ্য, টানা সাতদিনের ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বান্দরবান সদর উপজেলার আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’মিল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকা, বালাঘাটা ও ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর বন্যার পানি নামতে শুরু করে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


বান্দরবানে পানি কমলেও কাটেনি বন্যার্তদের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

বান্দরবানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকটে ভুগছেন হাজারো মানুষ। বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্যও পানির সংকটে পড়েছে। বন্যায় আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে।

যেসব এলাকার বাসাবাড়ি থেকে পানি নেমেছে এবং বসবাসের উপযোগী হয়েছে, সেসব পরিবারের সদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে যাদের বাড়িঘর বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে বা ভেসে গেছে, তারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এদিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।

টানা ভারী বর্ষণের পর বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় বন্যার স্রোতে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় দুই জেলার মাঝে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন সংযোগ সড়কে পাহাড়ধস ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যান চলাচল এখনো ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগে এই পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে; পাহাড় ধসে পাঁচজন, পানিতে ভেসে এক শিশু। ২৬টি পয়েন্টে পাহাড় ধস হয়েছে। পুরো জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছে, আর পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবার। জেলা প্রশাসন থেকে এরইমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেটি প্রস্তুত হলে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

উল্লেখ্য, টানা সাতদিনের ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বান্দরবান সদর উপজেলার আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’মিল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকা, বালাঘাটা ও ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর বন্যার পানি নামতে শুরু করে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর