infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইউএনও, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ডিসির জরুরি চিঠি

মেহেদি হাসান প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার। তিনি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

একই সঙ্গে তার পাঠানো প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নদীতীর ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরের টিন, কাঠ, দরজা-জানালা ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ চোখের সামনেই বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখছেন।

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর ইউএনও জেসমিন আক্তার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

ইউএনওর পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই রংপুরের জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সুপারিশের আলোকে জেলা প্রশাসক বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাতে হচ্ছে। সাময়িক ত্রাণ কিছুটা স্বস্তি দিলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দুর্ভোগ কমছে না। তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ভাঙনরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোহালী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইউএনও, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ডিসির জরুরি চিঠি

মেহেদি হাসান

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:০৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার। তিনি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

একই সঙ্গে তার পাঠানো প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নদীতীর ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরের টিন, কাঠ, দরজা-জানালা ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ চোখের সামনেই বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখছেন।

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর ইউএনও জেসমিন আক্তার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

ইউএনওর পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই রংপুরের জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সুপারিশের আলোকে জেলা প্রশাসক বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাতে হচ্ছে। সাময়িক ত্রাণ কিছুটা স্বস্তি দিলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দুর্ভোগ কমছে না। তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ভাঙনরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নোহালী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর