infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করছে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৯ পিএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগের ঘোষিত প্রার্থী তালিকা থেকে সরে এসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি।

এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবর্তিত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটার এলাকাতেও পরিবর্তন এসেছে। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রার্থী পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। আর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দক্ষিণ সিটি থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন।

ঢাকা সিটিতে এনসিপির প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সারোয়ার তুষার বলেন, এ বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে দল আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ওই তালিকা ঘোষণা করেন।

সেই ঘোষণায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ছয় মাস আগে নেওয়া সেই অবস্থান থেকে এখন সরে আসছে এনসিপি। দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতাকে দুই সিটিতে প্রার্থী করার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, এ ধরনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্রুতই দেওয়া হবে।

দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদও প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। সময়ের প্রয়োজনে সেই প্রার্থিতা পরিবর্তন হতে পারে। তবে এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটার হচ্ছেন, যা একটি ইঙ্গিতবহ বিষয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা কিংবা চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। আগে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন তিনি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তার আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই শেষে তার ভোটার এলাকা স্থানান্তর অনুমোদন করা হয়েছে।

এনসিপির নেতারা বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে। নির্বাচনকে শুধু জয়-পরাজয়ের বিষয় হিসেবে না দেখে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছে এনসিপি।

ফলে আগের প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন এনে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে এনসিপির নির্বাচনী কৌশলেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করছে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৯ পিএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগের ঘোষিত প্রার্থী তালিকা থেকে সরে এসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি।

এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবর্তিত প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটার এলাকাতেও পরিবর্তন এসেছে। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রার্থী পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। আর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দক্ষিণ সিটি থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন।

ঢাকা সিটিতে এনসিপির প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সারোয়ার তুষার বলেন, এ বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে দল আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ওই তালিকা ঘোষণা করেন।

সেই ঘোষণায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ছয় মাস আগে নেওয়া সেই অবস্থান থেকে এখন সরে আসছে এনসিপি। দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতাকে দুই সিটিতে প্রার্থী করার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, এ ধরনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্রুতই দেওয়া হবে।

দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদও প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। সময়ের প্রয়োজনে সেই প্রার্থিতা পরিবর্তন হতে পারে। তবে এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটার হচ্ছেন, যা একটি ইঙ্গিতবহ বিষয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা কিংবা চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। আগে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন তিনি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তার আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই শেষে তার ভোটার এলাকা স্থানান্তর অনুমোদন করা হয়েছে।

এনসিপির নেতারা বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে। নির্বাচনকে শুধু জয়-পরাজয়ের বিষয় হিসেবে না দেখে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছে এনসিপি।

ফলে আগের প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন এনে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে এনসিপির নির্বাচনী কৌশলেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর