infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সুন্দরগঞ্জের জনজীবন

‎৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৪১, ভোগান্তিতে কৃষক-শ্রমিক-ব্যবসায়ী

হাবিবুল্লাহ্ সরকার প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

‎তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার, বেলকা, শান্তিরাম, হরিপুর, কাপাসিয়ার, চর অঞ্চলের জনজীবন। দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই কোনো না কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এতে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি সেচ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অটোরিকশার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ আসছে আর কখন চলে যাচ্ছে—তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব থাকছে না। দিনের বেলায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারগুলো।

‎এই বিষয়ে লেখক, সংগঠক, গণমাধ্যমকর্মী, কলামিস্ট সুদীপ্ত শামীম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন- ‘ভাবা যায়! রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা, ১২ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ ছিল সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা!’

‎তিনি আরো লিখেন- সময়ের কী বদল! একসময় বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থাকতাম, এখন বিদ্যুৎ গেলেই নেম্পো জ্বলে, পাংকা চলে!

‎সময়ের কী বদল! একসময় বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থাকতাম, এখন বিদ্যুৎ গেলেই নেম্পো জ্বলে, পাংকা চলে!

‎স্থানিয় বাসিন্দ সাইফুল মিয়া বলেন-‎ ‘২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬-৭ ঘন্টা কারেন্ট পাই না, গরমে রাতে ঘুম পাড়া মুসকিল, আগে এত কারেন্ট যায় নাই এখন যায় খুব।’

‎সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩৪ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ।

‎এই ঘাটতির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ফলে কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ থাকলেও একই সময়ে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

‎সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জানান, গ্যাসস্বল্পতা এবং মহেশখালীতে গ্যাস পাইপলাইনে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে গ্যাসভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সুন্দরগঞ্জের সরবরাহ ব্যবস্থায়।

‎তিনি বলেন, “বর্তমানে বিদ্যুতের প্রয়োজন প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট, অথচ সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪১ মেগাওয়াট। ফলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় অর্ধেক অংশ সব সময় লোডশেডিংয়ের আওতায় থাকছে। অনিচ্ছাকৃত সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।"

‎লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকদের ওপরও। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক চালক সময়মতো গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। এতে দিনের শুরুতেই গাড়ি রাস্তায় নামাতে না পারায় আয় কমে যাচ্ছে।

‎বেলকার অটোবাইক চালক আমিনুল বলেন-‎“ কালকে রাতে গাড়ি চার্জে দিছি গাড়ির বেটারী গরম না হতে হতেই কারেন্ট যায়, চার্জ হয় কই, “

‎চালকদের ভাষ্য, একটি অটোরিকশার ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ দিতে কয়েক ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সেই সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকে অর্ধেক চার্জ নিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন; এতে দিনের মাঝপথে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।

‎ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, অনলাইন সেবা, ইন্টারনেট, মোবাইল ও ইলেকট্রনিকসের দোকানসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

‎ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পর কাজ শুরু করতেই কিছুক্ষণ পর পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

‎এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে রাউটার, কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালানো যায় না। ফলে ইন্টারনেট সেবা দিতে সমস্যা হয়। গ্রাহকরা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হন, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদেরও কিছু করার থাকে না।”

‎এদিকে টানা কয়েক দিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র গরমে আমন ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেচ পাম্প চালাতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

‎সেচের জন্য পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কৃষকদের অনেকে প্রয়োজনীয় সময়ে বিদ্যুৎ না পেয়ে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

‎তুরুন কৃষক আতিকুর রহমান বলেন “ধানের জমিতে এখন পানি দরকার। যে সময়ে সেচ দিতে হয়, সে সময় বিদ্যুৎ থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে ডিজেল কিনে শ্যালো চালাতে হচ্ছে। এতে সেচের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”

‎কৃষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় এভাবে লোডশেডিং চললে আমন আবাদে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি ফলনেও প্রভাব পড়তে পারে।

‎লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারছে না। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎অভিভাবকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। সামনে বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, তীব্র গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। পাশাপাশি কৃষি সেচের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

‎বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমস্যা নয়; জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্যাসস্বল্পতা ও গ্যাস পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুন্দরগঞ্জেও লোডশেডিং কমে আসবে।

‎তবে স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন—তীব্র গরমে যখন বিদ্যুৎ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, ব্যবসা ও আয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে, তখন এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে কবে?

‎দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং কমানো এবং কৃষি সেচসহ জরুরি প্রয়োজনের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জবাসী।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সুন্দরগঞ্জের জনজীবন

‎৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৪১, ভোগান্তিতে কৃষক-শ্রমিক-ব্যবসায়ী

হাবিবুল্লাহ্ সরকার

প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

‎তীব্র দাবদাহের মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার, বেলকা, শান্তিরাম, হরিপুর, কাপাসিয়ার, চর অঞ্চলের জনজীবন। দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই কোনো না কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এতে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি সেচ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অটোরিকশার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ আসছে আর কখন চলে যাচ্ছে—তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব থাকছে না। দিনের বেলায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারগুলো।

‎এই বিষয়ে লেখক, সংগঠক, গণমাধ্যমকর্মী, কলামিস্ট সুদীপ্ত শামীম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন- ‘ভাবা যায়! রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা, ১২ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ ছিল সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা!’

‎তিনি আরো লিখেন- সময়ের কী বদল! একসময় বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থাকতাম, এখন বিদ্যুৎ গেলেই নেম্পো জ্বলে, পাংকা চলে!

‎সময়ের কী বদল! একসময় বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থাকতাম, এখন বিদ্যুৎ গেলেই নেম্পো জ্বলে, পাংকা চলে!

‎স্থানিয় বাসিন্দ সাইফুল মিয়া বলেন-‎ ‘২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬-৭ ঘন্টা কারেন্ট পাই না, গরমে রাতে ঘুম পাড়া মুসকিল, আগে এত কারেন্ট যায় নাই এখন যায় খুব।’

‎সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩৪ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ।

‎এই ঘাটতির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ফলে কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ থাকলেও একই সময়ে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

‎সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জানান, গ্যাসস্বল্পতা এবং মহেশখালীতে গ্যাস পাইপলাইনে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে গ্যাসভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সুন্দরগঞ্জের সরবরাহ ব্যবস্থায়।

‎তিনি বলেন, “বর্তমানে বিদ্যুতের প্রয়োজন প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট, অথচ সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪১ মেগাওয়াট। ফলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় অর্ধেক অংশ সব সময় লোডশেডিংয়ের আওতায় থাকছে। অনিচ্ছাকৃত সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।"

‎লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকদের ওপরও। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক চালক সময়মতো গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। এতে দিনের শুরুতেই গাড়ি রাস্তায় নামাতে না পারায় আয় কমে যাচ্ছে।

‎বেলকার অটোবাইক চালক আমিনুল বলেন-‎“ কালকে রাতে গাড়ি চার্জে দিছি গাড়ির বেটারী গরম না হতে হতেই কারেন্ট যায়, চার্জ হয় কই, “

‎চালকদের ভাষ্য, একটি অটোরিকশার ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ দিতে কয়েক ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সেই সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকে অর্ধেক চার্জ নিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন; এতে দিনের মাঝপথে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।

‎ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, অনলাইন সেবা, ইন্টারনেট, মোবাইল ও ইলেকট্রনিকসের দোকানসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

‎ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পর কাজ শুরু করতেই কিছুক্ষণ পর পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

‎এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে রাউটার, কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালানো যায় না। ফলে ইন্টারনেট সেবা দিতে সমস্যা হয়। গ্রাহকরা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হন, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদেরও কিছু করার থাকে না।”

‎এদিকে টানা কয়েক দিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র গরমে আমন ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেচ পাম্প চালাতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

‎সেচের জন্য পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কৃষকদের অনেকে প্রয়োজনীয় সময়ে বিদ্যুৎ না পেয়ে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

‎তুরুন কৃষক আতিকুর রহমান বলেন “ধানের জমিতে এখন পানি দরকার। যে সময়ে সেচ দিতে হয়, সে সময় বিদ্যুৎ থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে ডিজেল কিনে শ্যালো চালাতে হচ্ছে। এতে সেচের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”

‎কৃষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় এভাবে লোডশেডিং চললে আমন আবাদে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি ফলনেও প্রভাব পড়তে পারে।

‎লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারছে না। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎অভিভাবকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। সামনে বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, তীব্র গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। পাশাপাশি কৃষি সেচের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

‎বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমস্যা নয়; জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গ্যাসস্বল্পতা ও গ্যাস পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুন্দরগঞ্জেও লোডশেডিং কমে আসবে।

‎তবে স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন—তীব্র গরমে যখন বিদ্যুৎ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, ব্যবসা ও আয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে, তখন এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে কবে?

‎দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং কমানো এবং কৃষি সেচসহ জরুরি প্রয়োজনের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জবাসী।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর