infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের দিকে ছুটছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে চলমান আলোচনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। বুধবার (১২ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় এটি প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

সিডনিভিত্তিক অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির বিষয়ে পুরোপুরি আশা হারায়নি। তবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে মানুষের আস্থা যে কমছে, তা স্পষ্ট।

তিনি বলেন, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া আলোচনা যত দীর্ঘায়িত হবে এবং দাবিগুলো যত জটিল হবে, দ্রুত কার্যকর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সংশয় ততই বাড়বে। মাসের শুরুতে যে আশাবাদ ছিল, তা ধীরে ধীরে সতর্ক ও ঝুঁকি-নির্ভর অবস্থানের দিকে চলে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাই বর্তমানে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। প্রণালিটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে মিশ্র সংকেত আসায় গত এক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দোহা যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় থেকে আলাদা। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অবরোধ প্রত্যাহারের মতো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করত।

জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসার সম্ভাবনা তারা দেখছে না। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেই কেবল ওপেকের পক্ষ থেকে ক্রুড উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে আশার আলো দেখা না গেলে তেলের দাম মৌলিকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের স্তরে অবস্থান করতে পারে। কারণ এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কূটনৈতিক আলোচনার ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

 

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের দিকে ছুটছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে চলমান আলোচনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। বুধবার (১২ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় এটি প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

সিডনিভিত্তিক অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির বিষয়ে পুরোপুরি আশা হারায়নি। তবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে মানুষের আস্থা যে কমছে, তা স্পষ্ট।

তিনি বলেন, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া আলোচনা যত দীর্ঘায়িত হবে এবং দাবিগুলো যত জটিল হবে, দ্রুত কার্যকর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সংশয় ততই বাড়বে। মাসের শুরুতে যে আশাবাদ ছিল, তা ধীরে ধীরে সতর্ক ও ঝুঁকি-নির্ভর অবস্থানের দিকে চলে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাই বর্তমানে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। প্রণালিটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে মিশ্র সংকেত আসায় গত এক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দোহা যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় থেকে আলাদা। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অবরোধ প্রত্যাহারের মতো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করত।

জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসার সম্ভাবনা তারা দেখছে না। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেই কেবল ওপেকের পক্ষ থেকে ক্রুড উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে আশার আলো দেখা না গেলে তেলের দাম মৌলিকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের স্তরে অবস্থান করতে পারে। কারণ এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কূটনৈতিক আলোচনার ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

 

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর