ইতালিতে তিন বাংলাদেশি হত্যা: দেড় মাসেও অধরা সন্দেহভাজন
ইতালির রাজধানী রোমে তিন বাংলাদেশিকে হত্যার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি ও তল্লাশি চালালেও মেলেনি তার খোঁজ। তিনি ইতালিতে লুকিয়ে আছেন নাকি অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
গত ২৬ জুন রাতে রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন বাংলাদেশি নাগরিক কামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী হোসনে জাহান মমতাজ এবং মেয়ে আরওয়া। হামলায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ওই দম্পতির বড় ছেলে আমির।
ঘটনার পরপরই ইতালির পুলিশ ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেনের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে দেশজুড়ে তল্লাশি শুরু করে। রোমের প্রসিকিউটর অফিসের সমন্বয়ে তদন্তের দায়িত্ব নেয় পুলিশের মোবাইল স্কোয়াড। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি, সড়কে চেকপোস্ট, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালানোর কথাও জানানো হয়। প্রথম কয়েক দিনে পুলিশের কাছে ৭০-এর বেশি তথ্য ও সম্ভাব্য অবস্থানসংক্রান্ত খবর পৌঁছেছিল। তা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার করা যায়নি তাকে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয় সন্দেহভাজনের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা তার মোবাইলের চ্যাট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বপরিকল্পনা এবং পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কিছু ইঙ্গিত পেয়েছেন। সেইসঙ্গে পালানোর ক্ষেত্রে তাকে কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখেছেন তারা। শাহাদাতের পূর্বপরিচয় ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক নিয়েও তদন্ত করা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে, তিনি এর আগে যুক্তরাজ্যে ছিলেন এবং ইতালিতে এসে বসবাসের অনুমতি পেতে আবেদন করেছিলেন। তার স্ত্রী-সন্তান যুক্তরাজ্যে থাকায় তদন্তের এক পর্যায়ে লন্ডনের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছিল বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে এতকিছু পরও কেন গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না তিন হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজনকে। প্রশ্ন উঠেছে ইতালি পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, ঘটনার পর থেকেই শাহাদাত আত্মগোপনে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ কাজে তাকে সাহায্য করছে কেউ। জুলাইয়ের শেষের দিকে রাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালি ছেড়ে অন্য কোনো দেশের পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন শাহাদত।
তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে না জানানোয় উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। একটি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেকে। নিহতদের স্বজনদের চাওয়া, দ্রুত শেষ হোক তদন্ত, গ্রেপ্তার হোক সন্দেহভাজন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: