infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৫ ভাদ্র ১৪৩৩

খুলনায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, চার ওয়ার্ড রেড জোন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২০ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এসব তথ্য জানান।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে খুলনায় ৩৪৪ জন, বাগেরহাটে ৭৭, সাতক্ষীরায় ১০, যশোরে ৩০, ঝিনাইদহে ৭, মাগুরায় ৪, নড়াইলে ৭, কুষ্টিয়ায় ১৬, চুয়াডাঙ্গায় ৬ এবং মেহেরপুরে একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৩ হাজার ৮২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩ হাজার ২৬৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে খুলনা নগরের চারটি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। ওয়ার্ডগুলো হলো ২২ নম্বর, ২৮ নম্বর, ২৯ নম্বর ও ৩০ নম্বর।

এর মধ্যে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাস্টম ঘাট ও কয়লাঘাট এলাকা, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম টুটপাড়া, মিয়াপাড়া ও কারাপাড়া, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মহসিন রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, টিবি ক্রস রোড ও গগন বাবু রোড এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের টুটপাড়া ও মতিয়াখালী এলাকা ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এবারও বর্ষা মৌসুমে খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান ডেঙ্গুর উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কম স্পষ্ট হওয়ায় রোগ শনাক্তে সতর্ক থাকা জরুরি।

চিকিৎসকেরা জানান, সামান্য জ্বর বা দুর্বলতার পরও ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের তিন দিনকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। এ সময়ে প্লাটিলেট কমে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বমি, তীব্র পেটব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের দোতলায় করিডরজুড়ে রোগী ও স্বজনদের ভিড়। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ সাধারণ রোগীদের সঙ্গেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফ মোহাম্মাদ বলেন, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। গত কয়েক দিন ধরে রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডের পাশাপাশি বারান্দা ও মেঝেতেও রোগী রাখতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নগরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, মেডিসিন বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে মোট ২৫টি শয্যা রয়েছে। এর বিপরীতে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

বেসরকারি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালেও শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে।

খুলনার সিভিল সার্জন মাহফুজা খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলার হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এক থেকে দুই দিন জ্বর থাকলেও অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। খুলনার নয়টি উপজেলার মধ্যে রূপসায় ডেঙ্গু রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি। অন্য আটটি উপজেলায় পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, সব উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীরও কোনো সংকট নেই।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


খুলনায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, চার ওয়ার্ড রেড জোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ আগষ্ট ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এসব তথ্য জানান।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে খুলনায় ৩৪৪ জন, বাগেরহাটে ৭৭, সাতক্ষীরায় ১০, যশোরে ৩০, ঝিনাইদহে ৭, মাগুরায় ৪, নড়াইলে ৭, কুষ্টিয়ায় ১৬, চুয়াডাঙ্গায় ৬ এবং মেহেরপুরে একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৩ হাজার ৮২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩ হাজার ২৬৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে খুলনা নগরের চারটি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। ওয়ার্ডগুলো হলো ২২ নম্বর, ২৮ নম্বর, ২৯ নম্বর ও ৩০ নম্বর।

এর মধ্যে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাস্টম ঘাট ও কয়লাঘাট এলাকা, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম টুটপাড়া, মিয়াপাড়া ও কারাপাড়া, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মহসিন রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, টিবি ক্রস রোড ও গগন বাবু রোড এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের টুটপাড়া ও মতিয়াখালী এলাকা ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এবারও বর্ষা মৌসুমে খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান ডেঙ্গুর উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কম স্পষ্ট হওয়ায় রোগ শনাক্তে সতর্ক থাকা জরুরি।

চিকিৎসকেরা জানান, সামান্য জ্বর বা দুর্বলতার পরও ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের তিন দিনকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। এ সময়ে প্লাটিলেট কমে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বমি, তীব্র পেটব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের দোতলায় করিডরজুড়ে রোগী ও স্বজনদের ভিড়। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ সাধারণ রোগীদের সঙ্গেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফ মোহাম্মাদ বলেন, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। গত কয়েক দিন ধরে রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডের পাশাপাশি বারান্দা ও মেঝেতেও রোগী রাখতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নগরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, মেডিসিন বিভাগের দুটি ওয়ার্ডে মোট ২৫টি শয্যা রয়েছে। এর বিপরীতে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

বেসরকারি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালেও শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে।

খুলনার সিভিল সার্জন মাহফুজা খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলার হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এক থেকে দুই দিন জ্বর থাকলেও অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। খুলনার নয়টি উপজেলার মধ্যে রূপসায় ডেঙ্গু রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি। অন্য আটটি উপজেলায় পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, সব উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীরও কোনো সংকট নেই।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর