infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে পরিচয়, পরে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক যুবককে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণের চেইন নেওয়া এবং মাদকদ্রব্যসহ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আল মামুন মিঠু নামে এক যুবক বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন মেহেদী হাসান পলিন (২৬) ও মো. ইমন হাওলাদার (২৬)। অভিযোগপত্রে তাদের ঠিকানা বোরহানউদ্দিন উপজেলার উদ্দামা (মনিরাম বাজার) এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. আল মামুন মিঠু (২৬) উপজেলার বড় মানিকা এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মো. আল মামুন মিঠু দাবি করেন, প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে তাদের একজনের জন্মদিন উপলক্ষে দাওয়াত করেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তাদের সঙ্গে মনিরাম বাজারে যান। সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাকে তাদের এলাকার স্থানীয় একটি জায়গা দেখানোর কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান।

পরে অভিযুক্তরা তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন মিঠু। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা কোমরের বেল্ট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান।

এরপর তার সামনে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য রেখে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা তার কাছে টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে মিঠু আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের ভয়ভীতির কারণে তিনি নিজের কাছে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা দেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একটি নম্বর থেকে অন্য একটি নম্বরে জোরপূর্বক ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া তার এক বন্ধুর পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের হিসাব থেকে আরও ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক পাঠানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নগদ ও ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ৫৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সময়ে অভিযুক্তরা তার কাছে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোর করে নিয়ে নেন। চেইন ও টাকা ফেরত দিতে বললে অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মিঠু।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, তার সামনে মাদকদ্রব্য রেখে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি যদি ঘটনাটি কাউকে জানান বা আইনের আশ্রয় নেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো এবং সামাজিকভাবে হেয় করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অভিযোগে মিঠু বলেন, একপর্যায়ে তিনি কোনোভাবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নিজেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর থানায় এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে পরিচয়, পরে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক যুবককে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণের চেইন নেওয়া এবং মাদকদ্রব্যসহ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আল মামুন মিঠু নামে এক যুবক বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন মেহেদী হাসান পলিন (২৬) ও মো. ইমন হাওলাদার (২৬)। অভিযোগপত্রে তাদের ঠিকানা বোরহানউদ্দিন উপজেলার উদ্দামা (মনিরাম বাজার) এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. আল মামুন মিঠু (২৬) উপজেলার বড় মানিকা এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মো. আল মামুন মিঠু দাবি করেন, প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে তাদের একজনের জন্মদিন উপলক্ষে দাওয়াত করেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তাদের সঙ্গে মনিরাম বাজারে যান। সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাকে তাদের এলাকার স্থানীয় একটি জায়গা দেখানোর কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান।

পরে অভিযুক্তরা তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন মিঠু। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা কোমরের বেল্ট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান।

এরপর তার সামনে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য রেখে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা তার কাছে টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে মিঠু আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের ভয়ভীতির কারণে তিনি নিজের কাছে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা দেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একটি নম্বর থেকে অন্য একটি নম্বরে জোরপূর্বক ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া তার এক বন্ধুর পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের হিসাব থেকে আরও ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক পাঠানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নগদ ও ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ৫৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সময়ে অভিযুক্তরা তার কাছে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোর করে নিয়ে নেন। চেইন ও টাকা ফেরত দিতে বললে অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মিঠু।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, তার সামনে মাদকদ্রব্য রেখে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি যদি ঘটনাটি কাউকে জানান বা আইনের আশ্রয় নেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো এবং সামাজিকভাবে হেয় করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অভিযোগে মিঠু বলেন, একপর্যায়ে তিনি কোনোভাবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নিজেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর থানায় এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর