infoamaderdin@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
১২ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা, অকেজো জেনারেটর-আইপিএস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে লোডশেডিং হলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পর্যন্ত মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

এতে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারের কক্ষ পুরোপুরি অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় দুই কক্ষেই মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়।

সে সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা অন্ধকারে পড়ে যান। হাসপাতালের জেনারেটর ও আইপিএস কেন সচল নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। শুধু জরুরি বিভাগ নয়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় দুর্ভোগে পড়ছেন।

তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় বিদ্যুৎ না থাকলে ন্যূনতম বাতাস চলাচলের জন্যও পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। অথচ হাসপাতালটিতে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা থাকলেও সেগুলো কার্যকর অবস্থায় নেই। এদিকে হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) কক্ষে এসি চালু থাকতে দেখা গেলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা ও বিদ্যুৎব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবাগ্রহীতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও হাসপাতালের ভেতর থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে তদন্তের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এটি। এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জরুরি বিভাগে রাতে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত জেনারেটর ও আইপিএস সচল করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা। এগুলো কেন সচল নেই, তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দ্রুত বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগে জেনারেটর ও আইপিএস সচল করে রোগীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা, অকেজো জেনারেটর-আইপিএস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে লোডশেডিং হলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পর্যন্ত মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।

এতে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারের কক্ষ পুরোপুরি অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় দুই কক্ষেই মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়।

সে সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা অন্ধকারে পড়ে যান। হাসপাতালের জেনারেটর ও আইপিএস কেন সচল নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। শুধু জরুরি বিভাগ নয়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় দুর্ভোগে পড়ছেন।

তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় বিদ্যুৎ না থাকলে ন্যূনতম বাতাস চলাচলের জন্যও পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। অথচ হাসপাতালটিতে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা থাকলেও সেগুলো কার্যকর অবস্থায় নেই। এদিকে হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) কক্ষে এসি চালু থাকতে দেখা গেলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা ও বিদ্যুৎব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবাগ্রহীতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও হাসপাতালের ভেতর থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে তদন্তের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল এটি। এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জরুরি বিভাগে রাতে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত জেনারেটর ও আইপিএস সচল করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা। এগুলো কেন সচল নেই, তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দ্রুত বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগে জেনারেটর ও আইপিএস সচল করে রোগীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর