infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ট্রাম্পের ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ ঘোষণার পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ০৩ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ অর্জনের দাবি করার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। গাজার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে চালানো এসব হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আবাসিক ভবন, বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল-শিফা হাসপাতালের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববার (২ আগস্ট) পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।

গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার ২৯ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম।

খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-কারারা এলাকায় আরেকটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আল-হামস পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মাহমুদ আল-হামস (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা (৩৭) এবং তাদের ছোট মেয়ে। নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় কামু আবু মুয়াইলিক (৬৮) এবং তার স্ত্রী হুদা (৫৯) নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দুই ভাইও প্রাণ হারান।

এ ছাড়া উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একজন, খান ইউনিসের আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় একজন এবং গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের রেমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গাজা শহরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) দেইর আল-বালাহে অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত ওষুধের গুদামে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় দুটি গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত উদ্যোগের আওতায় হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করে গাজা ইস্যুতে ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ অর্জনের ঘোষণা দেন। পরদিন শুক্রবার তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত ওই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি। হামাস জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে তবেই তারা অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেবে।

অন্যদিকে, রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, হামাস প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্রীকরণে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে যাবে না।

গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হামলা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ট্রাম্পের ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ ঘোষণার পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ আগষ্ট ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ অর্জনের দাবি করার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। গাজার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে চালানো এসব হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আবাসিক ভবন, বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল-শিফা হাসপাতালের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববার (২ আগস্ট) পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।

গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার ২৯ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম।

খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-কারারা এলাকায় আরেকটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আল-হামস পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মাহমুদ আল-হামস (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা (৩৭) এবং তাদের ছোট মেয়ে। নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় কামু আবু মুয়াইলিক (৬৮) এবং তার স্ত্রী হুদা (৫৯) নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দুই ভাইও প্রাণ হারান।

এ ছাড়া উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একজন, খান ইউনিসের আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় একজন এবং গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের রেমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গাজা শহরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) দেইর আল-বালাহে অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত ওষুধের গুদামে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় দুটি গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত উদ্যোগের আওতায় হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করে গাজা ইস্যুতে ‘যুগান্তকারী সাফল্য’ অর্জনের ঘোষণা দেন। পরদিন শুক্রবার তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত ওই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি। হামাস জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে তবেই তারা অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেবে।

অন্যদিকে, রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, হামাস প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্রীকরণে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে যাবে না।

গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হামলা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর