infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন শুল্কের জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ০৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের বাতিল করা আমদানি শুল্কের পরিবর্তে নতুন শুল্ক আরোপ করে অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সোমবার দায়ের করা মামলায় বলা হয়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর দ্বি-অঙ্কের হারে নতুন শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর প্রশাসন আবারও নতুন শুল্কের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

নিউইয়র্কের সঙ্গে অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাডা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিনও অংশ নিয়েছে এই মামলায়।

এদিকে ট্রাম্পের দাবি, উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করবে। গত বছর কম শুল্ক ও মুক্ত বাণিজ্যভিত্তিক দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর দ্বি-অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেন তিনি। তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি করেছে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির।

তবে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানান, ওই আইন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে প্রশাসনকে আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করা শুল্ক ফেরত দিতে হয়। রাজস্ব ঘাটতি পূরণে ট্রাম্প পরে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন, যার মেয়াদ গত ২৪ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়।

এরপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা প্রয়োগ করে নতুন শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্যায্য বাণিজ্যচর্চায় জড়িত বলে প্রমাণিত হলে সেই দেশের ওপর আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প এই ধারায় চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা আদালতের চ্যালেঞ্জেও বহাল ছিল।

এবার একই ধারা ব্যবহার করে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের অভিযোগে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর প্রযোজ্য।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, ‘অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। কোনো দেশ যদি জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই ৩০১ ধারার শুল্ক আইনগতভাবে টেকসই প্রমাণিত হয়েছে এবং এখনও তা বহাল রয়েছে।’

এর আগে জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও করা হয় দুটি পৃথক মামলা। সেসব মামলায়ও ৩০১ ধারার আওতায় আরোপিত নতুন শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, প্রতিটি দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি তুলে ধরতে পারেনি সরকার এবং কীভাবে এসব শুল্ক আরোপের মাধ্যমে অভিযোগকৃত অনিয়ম দূর হবে, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


নতুন শুল্কের জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের বাতিল করা আমদানি শুল্কের পরিবর্তে নতুন শুল্ক আরোপ করে অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সোমবার দায়ের করা মামলায় বলা হয়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর দ্বি-অঙ্কের হারে নতুন শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর প্রশাসন আবারও নতুন শুল্কের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

নিউইয়র্কের সঙ্গে অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাডা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিনও অংশ নিয়েছে এই মামলায়।

এদিকে ট্রাম্পের দাবি, উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করবে। গত বছর কম শুল্ক ও মুক্ত বাণিজ্যভিত্তিক দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর দ্বি-অঙ্কের শুল্ক আরোপ করেন তিনি। তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি করেছে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির।

তবে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানান, ওই আইন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে প্রশাসনকে আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করা শুল্ক ফেরত দিতে হয়। রাজস্ব ঘাটতি পূরণে ট্রাম্প পরে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন, যার মেয়াদ গত ২৪ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়।

এরপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা প্রয়োগ করে নতুন শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্যায্য বাণিজ্যচর্চায় জড়িত বলে প্রমাণিত হলে সেই দেশের ওপর আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প এই ধারায় চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা আদালতের চ্যালেঞ্জেও বহাল ছিল।

এবার একই ধারা ব্যবহার করে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের অভিযোগে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর প্রযোজ্য।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, ‘অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। কোনো দেশ যদি জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই ৩০১ ধারার শুল্ক আইনগতভাবে টেকসই প্রমাণিত হয়েছে এবং এখনও তা বহাল রয়েছে।’

এর আগে জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও করা হয় দুটি পৃথক মামলা। সেসব মামলায়ও ৩০১ ধারার আওতায় আরোপিত নতুন শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, প্রতিটি দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি তুলে ধরতে পারেনি সরকার এবং কীভাবে এসব শুল্ক আরোপের মাধ্যমে অভিযোগকৃত অনিয়ম দূর হবে, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর