মিয়ামি বিমানবন্দরে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। রানওয়েতে নামার পর বিমানটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং এটি একাধিক যানবাহনে ধাক্কা দেয়। মারাত্মক এই দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি অবতরণের পর নির্ধারিত রানওয়ের মধ্যে থামতে ব্যর্থ হয় এবং রানওয়ের শেষ প্রান্ত পার হয়ে বাইরে চলে যায়।
আর এতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে বিমানটি মিয়ামিতে আসছিল। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। বাকি দুজনকে কম গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং পথে থাকা ‘একাধিক যানবাহনে’ আঘাত করে। আগুন নেভানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অবস্থা যাচাই করতে ৬০টির বেশি ফায়ার ও রেসকিউ ইউনিট কাজ করেছিল।
ফায়ার রেসকিউ প্রধান রে জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনার পর কয়েকটি মোটরচালিত যানবাহনের ভেতরে কিছু মানুষ আটকা পড়েছিলেন। বিমানের ভেতরেও পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়েন। বিমানে মোট কতজন ক্রু বা যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জাদাল্লাহ আরও বলেন, দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও বিমানটি থেকে জ্বালানি বের হচ্ছিল। সেটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে বিমানবন্দরের কাছের একটি সড়ক পার হয়ে যায়।
বড় ধরনের পরিবহন দুর্ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। আরও তথ্য পাওয়া গেলে সংস্থাটি এ বিষয়ে আপডেট দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, দুর্ঘটনার পর তার মন্ত্রণালয় মিয়ামি বিমানবন্দরে সব ধরনের উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। যাত্রীদের ‘বড় ধরনের বিলম্বের’ জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার কারণ অবশ্য এখনও জানা যায়নি। এফএএ জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: