infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৯ জুলাই: কারফিউ, সেনা মোতায়েন ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতায় রক্তাক্ত এক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০৭ এএম

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও রক্তাক্ত দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেদিন নতুন মাত্রা পায়।

দেশজুড়ে পালিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, প্রাণহানি, কারফিউ, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার মতো ঘটনাগুলো দেশের পরিস্থিতিকে চরম অস্থিরতার দিকে নিয়ে যায়।

১৮ জুলাইয়ের সহিংসতার ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বাড্ডা, মহাখালী, পল্টন ও প্রেসক্লাব এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে খুলনা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে আহতদের ঢল নামে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আহতদের আনা হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই অন্তত ৫৬ জন নিহত হন। আর ১৭ থেকে ১৯ জুলাই—এই তিন দিনে প্রাণ হারান অন্তত ১০৩ জন। যদিও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, তবে দিনটি আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দিনভর উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এর আগে টানা কয়েক দিন ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। রাজধানীতে গণপরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, দূরপাল্লার বাস চলাচল স্থগিত থাকে, রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় মেট্রোরেল চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেদিন রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রামপুরা থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি, মিরপুরের কয়েকটি পুলিশ বক্স, বিআরটিএর সদর দপ্তর ও মেট্রো-১ কার্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যায়।

এদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। তবে র‍্যাব অভিযোগটি অস্বীকার করে জানায়, তাদের হেলিকপ্টার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে; আকাশ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও ১৯ জুলাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে ৮ দফা এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

একই দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্দোলনের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে বিএনপি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। রাজধানীর শাহবাগে ‘সন্তানের পাশে অভিভাবক’ ব্যানারে মানববন্ধন করে অভিভাবকেরাও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

১৯ জুলাইয়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় কারাগারের গেট ভেঙে শত শত বন্দি বেরিয়ে যান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যান এবং কারাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে জানানো হয়, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠনের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি সহিংস দিনের বিবরণ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচক হয়ে ওঠে। কারফিউ, সেনা মোতায়েন, ব্যাপক প্রাণহানি, যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবির বিস্তার—সব মিলিয়ে দিনটি পরবর্তী ঘটনাবলির ভিত্তি তৈরি করে। ফলে ১৯ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


১৯ জুলাই: কারফিউ, সেনা মোতায়েন ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতায় রক্তাক্ত এক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০৭ এএম

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও রক্তাক্ত দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেদিন নতুন মাত্রা পায়।

দেশজুড়ে পালিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, প্রাণহানি, কারফিউ, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার মতো ঘটনাগুলো দেশের পরিস্থিতিকে চরম অস্থিরতার দিকে নিয়ে যায়।

১৮ জুলাইয়ের সহিংসতার ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, বাড্ডা, মহাখালী, পল্টন ও প্রেসক্লাব এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে খুলনা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে আহতদের ঢল নামে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আহতদের আনা হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই অন্তত ৫৬ জন নিহত হন। আর ১৭ থেকে ১৯ জুলাই—এই তিন দিনে প্রাণ হারান অন্তত ১০৩ জন। যদিও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, তবে দিনটি আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দিনভর উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এর আগে টানা কয়েক দিন ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। রাজধানীতে গণপরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, দূরপাল্লার বাস চলাচল স্থগিত থাকে, রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় মেট্রোরেল চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেদিন রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রামপুরা থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি, মিরপুরের কয়েকটি পুলিশ বক্স, বিআরটিএর সদর দপ্তর ও মেট্রো-১ কার্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যায়।

এদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। তবে র‍্যাব অভিযোগটি অস্বীকার করে জানায়, তাদের হেলিকপ্টার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে; আকাশ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও ১৯ জুলাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে ৮ দফা এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

একই দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্দোলনের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে বিএনপি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। রাজধানীর শাহবাগে ‘সন্তানের পাশে অভিভাবক’ ব্যানারে মানববন্ধন করে অভিভাবকেরাও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

১৯ জুলাইয়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা। বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় কারাগারের গেট ভেঙে শত শত বন্দি বেরিয়ে যান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যান এবং কারাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে জানানো হয়, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠনের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি সহিংস দিনের বিবরণ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচক হয়ে ওঠে। কারফিউ, সেনা মোতায়েন, ব্যাপক প্রাণহানি, যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবির বিস্তার—সব মিলিয়ে দিনটি পরবর্তী ঘটনাবলির ভিত্তি তৈরি করে। ফলে ১৯ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর