infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

আবারও বন্যার শঙ্কা: আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় ৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবারও দেশের সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদী দুটির কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানির সমতলও বাড়ছে এবং আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলেও স্বাভাবিকের তুলনায় উচ্চ জোয়ার বিরাজ করছে। কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে আগামী একদিন পর্যন্ত জোয়ারের এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যেসব জেলার মানুষ নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বসবাস করেন, তাদের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আবারও বন্যার শঙ্কা: আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় ৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবারও দেশের সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদী দুটির কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানির সমতলও বাড়ছে এবং আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলেও স্বাভাবিকের তুলনায় উচ্চ জোয়ার বিরাজ করছে। কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে আগামী একদিন পর্যন্ত জোয়ারের এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যেসব জেলার মানুষ নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বসবাস করেন, তাদের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর