infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মারক নয়, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সাহসিকতার ইতিহাস সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতাকে জাতীয় স্মৃতিতে সংরক্ষণের একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এটি শুধু জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ধারাবাহিকতাও তুলে ধরবে। তাই এখানে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। আর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এসব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমন করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোসহ নানা নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। গুম, খুন ও অপহরণকে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশে পরিণত করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এসব ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং স্বৈরাচারী শাসনের প্রকৃত চিত্র উন্মোচনে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক ও ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষণ করা হবে। যারা এসব উপকরণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সত্যতা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে দুর্বল করে। তাই জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রতিটি তথ্য যথাসম্ভব নির্ভুল হওয়া উচিত। পাশাপাশি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় তথ্য উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। এটি প্রতিহিংসার বিচার নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ।

জাদুঘরকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন।

জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৫০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার এবং জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অযথা ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করছে কি না, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবং শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মারক নয়, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সাহসিকতার ইতিহাস সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতাকে জাতীয় স্মৃতিতে সংরক্ষণের একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এটি শুধু জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ধারাবাহিকতাও তুলে ধরবে। তাই এখানে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। আর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এসব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমন করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোসহ নানা নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। গুম, খুন ও অপহরণকে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশে পরিণত করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এসব ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং স্বৈরাচারী শাসনের প্রকৃত চিত্র উন্মোচনে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক ও ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষণ করা হবে। যারা এসব উপকরণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সত্যতা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে দুর্বল করে। তাই জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রতিটি তথ্য যথাসম্ভব নির্ভুল হওয়া উচিত। পাশাপাশি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় তথ্য উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। এটি প্রতিহিংসার বিচার নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ।

জাদুঘরকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন।

জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৫০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার এবং জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অযথা ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করছে কি না, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবং শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর