infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ছুটির আনন্দে ঘরমুখী মানুষের ঢল, মহাসড়কে তীব্র যানজট ও বাড়তি ভাড়ায় দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে ঘোষিত টানা তিন দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক ঢল নেমেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ফলে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সকালে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, দুই দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিল্পকারখানার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ভোর থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছুটি কাটাতে বিভিন্ন পেশার মানুষ এই সময়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নিয়ে কয়েকটি বাস কাউন্টার কৃত্রিম টিকিট সংকট তৈরি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘরমুখী যাত্রী জেরিন আক্তার বলেন, তিন দিনের ছুটি পেয়েছি, তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু বাস কাউন্টারে এসে দেখি টিকিট নেই। দুটি বাসে ওঠার চেষ্টা করলেও ৭০০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে এক হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে।

আরেক যাত্রী ইকলাছুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ যখনই বাড়ি ফেরে, তখনই বাসভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আজও ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ।

অভিযোগের বিষয়ে চন্দ্রা এলাকার শাহ ফাতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার মালিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, পরিবহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক যানবাহন কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। এসব কারণেই ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানেও যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজট আরও তীব্র হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেন বলেন, ভোর থেকেই মহাসড়কে যাত্রীদের তীব্র চাপ রয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘরমুখী মানুষের এই ব্যাপক চাপের কারণে দিনভর গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের ধীরগতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ছুটির আনন্দে ঘরমুখী মানুষের ঢল, মহাসড়কে তীব্র যানজট ও বাড়তি ভাড়ায় দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে ঘোষিত টানা তিন দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক ঢল নেমেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ফলে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সকালে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, দুই দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিল্পকারখানার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ভোর থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছুটি কাটাতে বিভিন্ন পেশার মানুষ এই সময়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নিয়ে কয়েকটি বাস কাউন্টার কৃত্রিম টিকিট সংকট তৈরি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘরমুখী যাত্রী জেরিন আক্তার বলেন, তিন দিনের ছুটি পেয়েছি, তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু বাস কাউন্টারে এসে দেখি টিকিট নেই। দুটি বাসে ওঠার চেষ্টা করলেও ৭০০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে এক হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে।

আরেক যাত্রী ইকলাছুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ যখনই বাড়ি ফেরে, তখনই বাসভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আজও ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ।

অভিযোগের বিষয়ে চন্দ্রা এলাকার শাহ ফাতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার মালিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, পরিবহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক যানবাহন কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। এসব কারণেই ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানেও যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজট আরও তীব্র হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেন বলেন, ভোর থেকেই মহাসড়কে যাত্রীদের তীব্র চাপ রয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘরমুখী মানুষের এই ব্যাপক চাপের কারণে দিনভর গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের ধীরগতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর