infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াল দিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

আজ ১৭ আগস্ট। ২০০৫ সালের এই দিনে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬৩ জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের প্রায় সব জেলায় চালানো ওই সমন্বিত হামলার লক্ষ্য ছিল আদালত, বিমানবন্দর, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

দেশজুড়ে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত ১০৪ জন আহত হন। একযোগে এত বিস্তৃত এলাকায় হামলার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) ১৮টি, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) ৮টি, রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) ৪টি, খুলনা মহানগর পুলিশে (কেএমপি) ৩টি, বরিশাল মহানগর পুলিশে (বিএমপি) ১২টি এবং সিলেট মহানগর পুলিশে ১০টি মামলা হয়।

এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি এবং রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

এসব মামলার মধ্যে ১৪২টির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বাকি ১৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলাগুলোতে মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

৯৪ মামলার বিচার শেষ

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৯টি মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯৪টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আরও ৫৫টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন, যেখানে আসামির সংখ্যা ৩৮৬ জন।

বিচার শেষ হওয়া মামলাগুলোতে অনেক আসামি বিভিন্নভাবে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন। এসব মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় ১৩৩ জন আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ঢাকায় বিচারাধীন পাঁচটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিচারকদের ওপরও হামলা

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার পর জেএমবির ধারাবাহিক জঙ্গি তৎপরতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। আদালত ও বিচারব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হয়। বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ এসব হামলার শিকার হন।

২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে বোমা হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এতে বিচারক ও তাঁর গাড়িচালক আহত হন।

১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহম্মদ নিহত হন। হামলায় আরও অনেকে আহত হন।

এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ ছয় নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গাজীপুর ও চট্টগ্রামেও ভয়াবহ হামলা

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি ও চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। গাজীপুরে আইনজীবীর পোশাকে এক আত্মঘাতী জঙ্গি লাইব্রেরিতে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। হামলাকারীও ঘটনাস্থলে মারা যায়।

একই দিনে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আত্মঘাতী হামলা চালায় জেএমবির জঙ্গিরা। এতে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল ও একজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হন।

এরপর ১ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হন।

নেত্রকোনার হামলায় নিহত ৮

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুরপাড় এলাকায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে স্থানীয় উদীচীর দুই নেতাসহ আটজন নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ।

২০০৫ সালের এসব ধারাবাহিক হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ মোট ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন বলে পুলিশের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যে হামলা বদলে দেয় জঙ্গিবাদ মোকাবিলার চিত্র

১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা শুধু তাৎক্ষণিক আতঙ্কই তৈরি করেনি, বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে আসে। একই দিনে দেশের প্রায় সব জেলায় সমন্বিত হামলার মাধ্যমে জেএমবি তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও পরিকল্পিত নাশকতার ভয়াবহতা দেখিয়েছিল।

পরবর্তী কয়েক মাসে আদালত, বিচারক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারি স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনজীবনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জেএমবির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশকে আইনের আওতায় আনা হয়।

তবে ১৭ আগস্টের সেই ভয়াল দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে আজও একটি গভীর সতর্কবার্তা হয়ে আছে। প্রায় দুই দশক পরও দিনটি ফিরে এলে মনে পড়ে যায়, কীভাবে একই সময়ে দেশের ৬৩ জেলায় বিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি জঙ্গি সংগঠন রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াল দিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

আজ ১৭ আগস্ট। ২০০৫ সালের এই দিনে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬৩ জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের প্রায় সব জেলায় চালানো ওই সমন্বিত হামলার লক্ষ্য ছিল আদালত, বিমানবন্দর, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

দেশজুড়ে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত ১০৪ জন আহত হন। একযোগে এত বিস্তৃত এলাকায় হামলার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) ১৮টি, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) ৮টি, রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) ৪টি, খুলনা মহানগর পুলিশে (কেএমপি) ৩টি, বরিশাল মহানগর পুলিশে (বিএমপি) ১২টি এবং সিলেট মহানগর পুলিশে ১০টি মামলা হয়।

এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি এবং রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

এসব মামলার মধ্যে ১৪২টির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বাকি ১৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলাগুলোতে মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

৯৪ মামলার বিচার শেষ

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৯টি মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯৪টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আরও ৫৫টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন, যেখানে আসামির সংখ্যা ৩৮৬ জন।

বিচার শেষ হওয়া মামলাগুলোতে অনেক আসামি বিভিন্নভাবে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন। এসব মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় ১৩৩ জন আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ঢাকায় বিচারাধীন পাঁচটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিচারকদের ওপরও হামলা

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার পর জেএমবির ধারাবাহিক জঙ্গি তৎপরতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। আদালত ও বিচারব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হয়। বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ এসব হামলার শিকার হন।

২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে বোমা হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এতে বিচারক ও তাঁর গাড়িচালক আহত হন।

১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহম্মদ নিহত হন। হামলায় আরও অনেকে আহত হন।

এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ ছয় নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গাজীপুর ও চট্টগ্রামেও ভয়াবহ হামলা

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি ও চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। গাজীপুরে আইনজীবীর পোশাকে এক আত্মঘাতী জঙ্গি লাইব্রেরিতে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। হামলাকারীও ঘটনাস্থলে মারা যায়।

একই দিনে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আত্মঘাতী হামলা চালায় জেএমবির জঙ্গিরা। এতে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল ও একজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হন।

এরপর ১ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হন।

নেত্রকোনার হামলায় নিহত ৮

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুরপাড় এলাকায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে স্থানীয় উদীচীর দুই নেতাসহ আটজন নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ।

২০০৫ সালের এসব ধারাবাহিক হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ মোট ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন বলে পুলিশের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যে হামলা বদলে দেয় জঙ্গিবাদ মোকাবিলার চিত্র

১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা শুধু তাৎক্ষণিক আতঙ্কই তৈরি করেনি, বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে আসে। একই দিনে দেশের প্রায় সব জেলায় সমন্বিত হামলার মাধ্যমে জেএমবি তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও পরিকল্পিত নাশকতার ভয়াবহতা দেখিয়েছিল।

পরবর্তী কয়েক মাসে আদালত, বিচারক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারি স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনজীবনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জেএমবির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশকে আইনের আওতায় আনা হয়।

তবে ১৭ আগস্টের সেই ভয়াল দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে আজও একটি গভীর সতর্কবার্তা হয়ে আছে। প্রায় দুই দশক পরও দিনটি ফিরে এলে মনে পড়ে যায়, কীভাবে একই সময়ে দেশের ৬৩ জেলায় বিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি জঙ্গি সংগঠন রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর