infoamaderdin@gmail.com রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

গঙ্গাচড়ায় আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ, জমি বেদখলের চেষ্টা

মেহেদি হাসান প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের নগর বড়বাড়ী (আলমবিদিতর) এলাকায় একটি ভোগদখলকৃত জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা চলমান এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ জারি থাকা সত্বেও বেদখল এবং বাদী পক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগকারী মো. নূর আলম জানান, তার পিতা মৃত ইউসুফ আলী ০৩/০৯/১৯৯৭ ইং সনে ৬২০/১৩৫৩,৬২১ দাগে, ৪৯৬৩ নং দলীল মূলে মোট ২৮ শতক জমি ক্রয়কৃত মালিক হিসেবে ভোগদল করে আসছেন। ভোগদলের দীর্ঘ ২৯ বছর পরে দলিল দাতা আছাব উদ্দীনের ছেলে প্রতিপক্ষ কেচু গং গত ৬/৬/২৬ তারিখে নিজেকে ক্রয়কৃত মালিক দাবী করে এবং জমি বেদখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

তিনি আরো জানান,বিষয়টি নিয়ে ১৩/৬/২৬ ইং এমআর মামলা ৬৪৫/২৬ দায়ের করি। কিন্তু প্রতিপক্ষ আইন অমান্যকারী ও দাঙ্গাবাজ হওয়ায় আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় ১৬/৬/২৬ ইং গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। প্রতিপক্ষ থানা পুলিশকে তোয়াক্কা না করে পুনরায় জমি বেদখলের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে ১৮৮ ধারার আবেদন করি এবং প্রতিপক্ষ ১৮৮ ধারার নির্দেশ অমান্য করে এবং জমিতে ঘর উঠানো ও ধান রোপন করে। যেহেতু প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশ কোনভাবেই মানছেন না, সেহেতু ন্যায় বিচার প্রাপ্তি এবং প্রতিপক্ষের যথাযথ শাস্তির দাবীতে সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ গঙ্গাচড়া সিনিয়র জজ আদালতে ০৭/০৭/২৬ ইং তারিখে ১০৯/২৬ একটি মামলা আনয়ন করি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, প্রতিপক্ষ আদালতের আদেশ মানছে না। বরং প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি বাধা দিলে মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী মো. নূর আলম বলেন, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও প্রতিপক্ষ বারবার জমি দখলের চেষ্টা করছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তারা সীমানা পিলার বসাতে যাওয়া, জমিতে ঘর উঠানো এবং ধান রোপনের মতো দুঃসাহস আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে নিরবে চ্যালেঞ্জ করারই নামান্তর । আমি একাধিকবার থানা পুলিশের সরনাপন্ন হলেও ইতিবাচক কোন সহযোগীতা পাইনি বলেও অভিযোগ করেন। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে নতুন করে আর কোন আপত্তিকর ঘটনা ঘটবে না বলে নূর আলম বিশ্বাস করেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তাদের বক্তব্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান,আমরা আদালতের নির্দেশ প্রতিপালনের সার্বিক চেষ্টা করি। আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


গঙ্গাচড়ায় আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ, জমি বেদখলের চেষ্টা

মেহেদি হাসান

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের নগর বড়বাড়ী (আলমবিদিতর) এলাকায় একটি ভোগদখলকৃত জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা চলমান এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ জারি থাকা সত্বেও বেদখল এবং বাদী পক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগকারী মো. নূর আলম জানান, তার পিতা মৃত ইউসুফ আলী ০৩/০৯/১৯৯৭ ইং সনে ৬২০/১৩৫৩,৬২১ দাগে, ৪৯৬৩ নং দলীল মূলে মোট ২৮ শতক জমি ক্রয়কৃত মালিক হিসেবে ভোগদল করে আসছেন। ভোগদলের দীর্ঘ ২৯ বছর পরে দলিল দাতা আছাব উদ্দীনের ছেলে প্রতিপক্ষ কেচু গং গত ৬/৬/২৬ তারিখে নিজেকে ক্রয়কৃত মালিক দাবী করে এবং জমি বেদখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

তিনি আরো জানান,বিষয়টি নিয়ে ১৩/৬/২৬ ইং এমআর মামলা ৬৪৫/২৬ দায়ের করি। কিন্তু প্রতিপক্ষ আইন অমান্যকারী ও দাঙ্গাবাজ হওয়ায় আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় ১৬/৬/২৬ ইং গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। প্রতিপক্ষ থানা পুলিশকে তোয়াক্কা না করে পুনরায় জমি বেদখলের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে ১৮৮ ধারার আবেদন করি এবং প্রতিপক্ষ ১৮৮ ধারার নির্দেশ অমান্য করে এবং জমিতে ঘর উঠানো ও ধান রোপন করে। যেহেতু প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশ কোনভাবেই মানছেন না, সেহেতু ন্যায় বিচার প্রাপ্তি এবং প্রতিপক্ষের যথাযথ শাস্তির দাবীতে সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ গঙ্গাচড়া সিনিয়র জজ আদালতে ০৭/০৭/২৬ ইং তারিখে ১০৯/২৬ একটি মামলা আনয়ন করি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, প্রতিপক্ষ আদালতের আদেশ মানছে না। বরং প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি বাধা দিলে মিথ্যা মামলা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী মো. নূর আলম বলেন, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও প্রতিপক্ষ বারবার জমি দখলের চেষ্টা করছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তারা সীমানা পিলার বসাতে যাওয়া, জমিতে ঘর উঠানো এবং ধান রোপনের মতো দুঃসাহস আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে নিরবে চ্যালেঞ্জ করারই নামান্তর । আমি একাধিকবার থানা পুলিশের সরনাপন্ন হলেও ইতিবাচক কোন সহযোগীতা পাইনি বলেও অভিযোগ করেন। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে নতুন করে আর কোন আপত্তিকর ঘটনা ঘটবে না বলে নূর আলম বিশ্বাস করেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তাদের বক্তব্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান,আমরা আদালতের নির্দেশ প্রতিপালনের সার্বিক চেষ্টা করি। আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর