ঝুরঝুরি খালে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, জলাবদ্ধতায় শ্যামনগরে হাজার বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি খাল দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে ভেটখালী, তারানীপুর, মানিকখালী বিলসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার বিঘা ধান ও সবজির জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেটখালী বাজার, ভেটখালী, তারানীপুর ও মানিকখালী বিলের পানি ঝুরঝুরি খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ার কথা থাকলেও খালের শেষ প্রান্তে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। খালের শেষ অংশে প্রধান সড়ক ও বসতবাড়ি থাকায় পানি আটকে গিয়ে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ফসলি জমি, বসতভিটা, পুকুর, গাছপালা এবং স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে মাছের ঘের পরিচালনা করছেন কয়েকজন ব্যক্তি। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ বছর ধানের বীজও বপন করা সম্ভব হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় দারিদ্র্য আরও বাড়বে।
আরেক বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ঝুরঝুরি খালের আংশিক পুনঃখনন হলেও সম্পূর্ণ সংস্কার না হওয়ায় এবং ভেটখালী-তারানীপুর পাঞ্জেগানা মসজিদসংলগ্ন স্থানে নির্মিত কালভার্টের কারণে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তিনি খালটি দখলমুক্ত করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
মুন্ডা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রিয়তোষ মুন্ডা বলেন, বর্ষা এলেই তাদের দুর্ভোগ শুরু হয়। ধান ও সবজির জমি পানিতে তলিয়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শিশুদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, খালের একটি অংশ দখল করে মাছের ঘের করায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, খালের একটি অংশ দখলের অভিযোগ ওঠা সমসের বলেন, সরকার যদি খাল খনন করে এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে, তাহলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তিনিও খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দেন।
রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খালের আংশিক খনন করা হয়েছিল। তবে খালের শেষ প্রান্তে প্রধান সড়ক ও বসতবাড়ি থাকায় এটি মানিকখালী খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, ঝুরঝুরি খালের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঝুরঝুরি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে কৃষিজমি রক্ষা, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: