গ্যাস নেই, তবু মাসে মাসে বিল: ভোগান্তিতে গ্রাহক, অতিরিক্ত হাজার কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ
দেশজুড়ে আবাসিক গ্রাহকদের বড় একটি অংশ নিয়মিত গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসে নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকলেও বিল আদায়ে কোনো ছাড় দিচ্ছে না বিতরণ সংস্থাগুলো।
রাজধানীর শ্যামলীর বাসিন্দা লিজা আক্তার বলেন, ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না, অথচ প্রতি মাসে নির্ধারিত বিল দিতে হচ্ছে। কবে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সম্প্রতি গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। সেখানে বক্তারা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত, দীর্ঘদিনের সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না দিয়ে বিল আদায় বন্ধের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিতরণ সংস্থাগুলো গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিটারের মাধ্যমে সরবরাহ পাওয়া গ্যাসের পরিমাণ অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করে। অর্থাৎ তারা যতটুকু গ্যাস গ্রহণ করে, ততটুকুরই দাম দেয়। কিন্তু আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মাসিক বিল আদায় করা হয়, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকুক বা না থাকুক।
যদিও অতিরিক্ত আদায়ের নির্দিষ্ট সরকারি হিসাব প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু আবাসিক খাত থেকেই বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে বিতরণ সংস্থাগুলো। শিল্প ও অন্যান্য খাতের হিসাব যোগ করলে এই অঙ্ক আরও বড় হতে পারে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী মনে করেন, গ্যাস সরবরাহ না দিয়ে বিল আদায় করা অন্যায্য ও অযৌক্তিক। তিনি বলেন, বিল পরিশোধ না করলে বিতরণ সংস্থা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। কিন্তু গ্রাহককে গ্যাস সরবরাহ না করলে বিল আদায় করা যাবে না—এমন কোনো শর্ত সংযোগ চুক্তিতে রাখা হয়নি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কমিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন যে, দুই বছর ধরে গ্যাস না পেয়েও তাদের কাছে বিল দাবি করছে তিতাস। অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি বিল পরিশোধ না করার পক্ষে রায় দেন। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিতাস উচ্চ আদালতে রিট করে এবং বিষয়টি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রাহকস্বার্থ রক্ষায় প্রিপেইড বা স্মার্ট মিটার স্থাপনের পাশাপাশি প্রকৃত গ্যাস ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বিল আদায়ে স্বচ্ছতাও বাড়বে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: