সুন্দরবনে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ভিডিওতে ধরা পড়ল বিরল দৃশ্য
সুন্দরবনের নিস্তব্ধ পরিবেশে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনেই দেখা মিলেছে একটি পূর্ণবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। বনকর্মীদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বাঘটি কিছুক্ষণ বনকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান করে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। এরপর নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে আবার জঙ্গলের ভেতরে চলে যায়।
ভিডিওটি গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে ধারণ করা হয়। শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরে অবস্থিত বনকেন্দ্রটির দক্ষিণ দিক থেকে এসে বাঘটি কিছুক্ষণ অবস্থান করে পরে উত্তর দিকের জঙ্গলে প্রবেশ করে।
রোববার (২৬ জুলাই) বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী। তবে এটি সম্প্রতি বন বিভাগ কর্তৃক অবমুক্ত করা বাঘিনী কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ জুলাই দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে একটি উদ্ধার করা বাঘিনীকে আন্ধারমানিক এলাকায় অবমুক্ত করে বন বিভাগ। ওই বাঘিনীকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন শরকির খাল এলাকা থেকে ফাঁদে আটকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা শেষে তাকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অবমুক্ত বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বন বিভাগ প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরায় ইতোমধ্যে আরও তিনটি বাঘের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, বন মোরগ এবং বন্য শুকরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর চলাচলের ছবিও ধরা পড়েছে।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, ভিডিওতে দেখা বাঘটির ডোরার নকশা বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি বন বিভাগের অবমুক্ত করা বাঘিনী নয়। বরং এটি সুন্দরবনের আরেকটি বন্য বাঘিনী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় বেশি সংখ্যায় বাঘের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে হরিণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত টহলের সময় বনকর্মীরা আগের চেয়ে বেশি বাঘের পায়ের ছাপও দেখতে পাচ্ছেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রভাবের ফলে বাঘের স্বাভাবিক বিচরণ ও উপস্থিতি আগের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: