পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছেড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (২৬ জুলাই) বেলা আড়াইটার কিছু আগে তার গাড়িবহর বঙ্গভবন ত্যাগ করে। এরপর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
জানা গেছে, গুলশান-১-এর ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের পঞ্চম তলায় বসবাস করবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি ওই বাসভবনে নতুন টেলিফোন সংযোগও দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগ গ্রহণের পর থেকেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন বিধি অনুযায়ী আগামী ছয় মাস বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বঙ্গভবন থেকে। তবে তার আবাসস্থল হবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন। এরই মধ্যে ওই এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই বর্তমানে অনুসরণ করা হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে সেগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: