infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন শতাধিক একর ফসলি জমি, স্থায়ী সমাধানের দাবি

ওহিদুল ইসলাম নেন্টু মোল্লা প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পদ্মাসহ প্রধান তিনটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পদ্মার তীব্র ভাঙনে শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়াসহ একাধিক এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষিরা। এতে কয়েকশ কৃষক আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

শুধু পদ্মা নয়, দৌলতপুরের মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পদ্মার ভাঙনই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙনের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নতুন বরাদ্দ নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি জানান, নদীভাঙন থেকে দৌলতপুরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো মানুষ ভূমিহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন শতাধিক একর ফসলি জমি, স্থায়ী সমাধানের দাবি

ওহিদুল ইসলাম নেন্টু মোল্লা

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৭ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পদ্মাসহ প্রধান তিনটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পদ্মার তীব্র ভাঙনে শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়াসহ একাধিক এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষিরা। এতে কয়েকশ কৃষক আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

শুধু পদ্মা নয়, দৌলতপুরের মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পদ্মার ভাঙনই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙনের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নতুন বরাদ্দ নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি জানান, নদীভাঙন থেকে দৌলতপুরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো মানুষ ভূমিহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর