infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাউশিতে তদবির করতে এসে ভুয়া বিসিএস কর্মকর্তা আটক, ব্যাগে মিলল ১৩টি জাল ডিও লেটার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭ পিএম

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) বদলির তদবির করতে এসে নিজেকে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করে ১৩টি ভুয়া ডিও লেটার, জাল পরিচয়পত্র, বদলির আবেদনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নকল নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. মুহিব্বুল্লাহ। পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মাউশি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মো. মুহিব্বুল্লাহ মাউশি কার্যালয়ে এসে একজন প্রতিমন্ত্রীর নামে ইস্যু করা একটি ডিও লেটার দেখিয়ে বদলির তদবির শুরু করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি ডিও লেটারটি যাচাইয়ের জন্য প্রশাসন শাখায় পাঠান। যাচাই-বাছাই শেষে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরে মাউশির প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক বিষয়টি তদন্ত করে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি কোনো সরকারি কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এরপর পুলিশ, সাংবাদিক ও মাউশির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিতে বিভিন্ন সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নামে ইস্যু করা ১৩টি জাল ডিও লেটার, ভুয়া পরিচয়পত্র, এক লাখ টাকার একটি চেক, সোনালী ব্যাংকের একটি চেকবই, বিভিন্ন ফোন নম্বরের তালিকা, বিপুল পরিমাণ ভিজিটিং কার্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বদলিসংক্রান্ত জাল নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক জানান, আটক ব্যক্তি নিজেকে ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও তার সেই পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নামে জাল ডিও লেটার ব্যবহার করে বদলির তদবির করার চেষ্টা করেন। পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নথিপত্র উদ্ধার করা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের মাধ্যমে কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


মাউশিতে তদবির করতে এসে ভুয়া বিসিএস কর্মকর্তা আটক, ব্যাগে মিলল ১৩টি জাল ডিও লেটার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭ পিএম

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) বদলির তদবির করতে এসে নিজেকে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করে ১৩টি ভুয়া ডিও লেটার, জাল পরিচয়পত্র, বদলির আবেদনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নকল নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. মুহিব্বুল্লাহ। পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মাউশি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মো. মুহিব্বুল্লাহ মাউশি কার্যালয়ে এসে একজন প্রতিমন্ত্রীর নামে ইস্যু করা একটি ডিও লেটার দেখিয়ে বদলির তদবির শুরু করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি ডিও লেটারটি যাচাইয়ের জন্য প্রশাসন শাখায় পাঠান। যাচাই-বাছাই শেষে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরে মাউশির প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক বিষয়টি তদন্ত করে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি কোনো সরকারি কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এরপর পুলিশ, সাংবাদিক ও মাউশির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিতে বিভিন্ন সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নামে ইস্যু করা ১৩টি জাল ডিও লেটার, ভুয়া পরিচয়পত্র, এক লাখ টাকার একটি চেক, সোনালী ব্যাংকের একটি চেকবই, বিভিন্ন ফোন নম্বরের তালিকা, বিপুল পরিমাণ ভিজিটিং কার্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বদলিসংক্রান্ত জাল নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক জানান, আটক ব্যক্তি নিজেকে ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও তার সেই পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নামে জাল ডিও লেটার ব্যবহার করে বদলির তদবির করার চেষ্টা করেন। পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নথিপত্র উদ্ধার করা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের মাধ্যমে কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর