infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

আশাশুনিতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ, গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে ৬ দশমিক ৫৮ একর জমি জবরদখল, মৎস্যঘের লুটপাট এবং গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে গ্রামবাসীর পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জাপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম আজাদ সানা এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আশাশুনি উপজেলার নাকাগদারঘাট মৌজার বিএস ৩১ ও ৫৮ নম্বর খতিয়ানের বিএস ১৩৬, ১৩৭, ১৪৭ ও ১৪৮ নম্বর দাগে ৮ দশমিক ৫০ একর জমির মধ্যে ৬ দশমিক ৫৮ একর জমি পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধান ও মাছ চাষ করে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু মির্জাপুর গ্রামের মৃত শাসছুর রহমান সানার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানা শত্রুতার জেরে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ওই জমির মৎস্যঘের লুটপাট এবং জবরদখলের ষড়যন্ত্র করেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৭৫/২০২৫ নম্বর পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। আদালত তফসিলভুক্ত জমির ওপর প্রতিপক্ষকে বারিত আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের ওই আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও শাহাবুদ্দিন সানা তার সহযোগীদের নিয়ে ২০২৫ সালের ২৩ মে ফিল্মি কায়দায় জমির মধ্যে থাকা ২ একর মৎস্যঘেরে প্রবেশ করে ঘেরের বাসা ভাঙচুর, কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট এবং ঘেরটি জবরদখল করে নেয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে দফায় দফায় মারধর করা হয় এবং আহত করা হয়।

এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাহাবুদ্দিন সানাসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

আবুল কালাম আজাদ সানা বলেন, মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর ১৮ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে শাহাবুদ্দিন সানা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর তাদের হয়রানি করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ এপ্রিল ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।

তিনি বলেন, জমি ফিরে পাওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সালিশি বৈঠকে জবরদখল হওয়া সম্পত্তি তাদের বলে স্বীকৃত হয় এবং প্রতিপক্ষের জমির মধ্যে তাদের আরও প্রায় আড়াই বিঘা জমি পাওনা রয়েছে বলে নির্ধারিত হয়। পরে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের সম্মতিতে পাওনা জমির একটি অংশ বুঝিয়ে দিলেও অবশিষ্ট জমি আজ-কাল করে এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উল্টো শাহাবুদ্দিন সানা মিথ্যা ঘটনার তারিখ উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ফলে তারা জমি হারিয়েছেন, মৎস্যঘের হারিয়েছেন, মারধরের শিকার হয়েছেন এবং মামলার আসামিও হয়েছেন। এসব বিষয় জানার পরও পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন সানার প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ সানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, মারধর এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আশাশুনিতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ, গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৭ পিএম

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে ৬ দশমিক ৫৮ একর জমি জবরদখল, মৎস্যঘের লুটপাট এবং গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে গ্রামবাসীর পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জাপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম আজাদ সানা এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আশাশুনি উপজেলার নাকাগদারঘাট মৌজার বিএস ৩১ ও ৫৮ নম্বর খতিয়ানের বিএস ১৩৬, ১৩৭, ১৪৭ ও ১৪৮ নম্বর দাগে ৮ দশমিক ৫০ একর জমির মধ্যে ৬ দশমিক ৫৮ একর জমি পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধান ও মাছ চাষ করে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু মির্জাপুর গ্রামের মৃত শাসছুর রহমান সানার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানা শত্রুতার জেরে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ওই জমির মৎস্যঘের লুটপাট এবং জবরদখলের ষড়যন্ত্র করেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৭৫/২০২৫ নম্বর পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। আদালত তফসিলভুক্ত জমির ওপর প্রতিপক্ষকে বারিত আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের ওই আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও শাহাবুদ্দিন সানা তার সহযোগীদের নিয়ে ২০২৫ সালের ২৩ মে ফিল্মি কায়দায় জমির মধ্যে থাকা ২ একর মৎস্যঘেরে প্রবেশ করে ঘেরের বাসা ভাঙচুর, কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট এবং ঘেরটি জবরদখল করে নেয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে দফায় দফায় মারধর করা হয় এবং আহত করা হয়।

এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাহাবুদ্দিন সানাসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

আবুল কালাম আজাদ সানা বলেন, মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর ১৮ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে শাহাবুদ্দিন সানা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর তাদের হয়রানি করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ এপ্রিল ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।

তিনি বলেন, জমি ফিরে পাওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সালিশি বৈঠকে জবরদখল হওয়া সম্পত্তি তাদের বলে স্বীকৃত হয় এবং প্রতিপক্ষের জমির মধ্যে তাদের আরও প্রায় আড়াই বিঘা জমি পাওনা রয়েছে বলে নির্ধারিত হয়। পরে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের সম্মতিতে পাওনা জমির একটি অংশ বুঝিয়ে দিলেও অবশিষ্ট জমি আজ-কাল করে এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উল্টো শাহাবুদ্দিন সানা মিথ্যা ঘটনার তারিখ উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ফলে তারা জমি হারিয়েছেন, মৎস্যঘের হারিয়েছেন, মারধরের শিকার হয়েছেন এবং মামলার আসামিও হয়েছেন। এসব বিষয় জানার পরও পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন সানার প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ সানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন সানার বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, মারধর এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর