সাংবাদিকরা বক্তব্য চাইলেই ক্ষেপে যান ডিসি কাউসার আজিজ, প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ
সাতক্ষীরায় দায়িত্বরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ, ফোন না ধরা, ক্যামেরার সামনে কথা না বলা, অহরহ অপমান করাসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে।
প্রতিবাদে শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। জরুরী সভায় সাংবাদিকরা, জেলা প্রশাসকের অপেশাদার আচার ব্যবহার, তীর্ষক ও অসহযোগীতামুলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাতক্ষীরা কারাগার ভাঙচুর করে পালিয়ে যান হত্যা মামলায় বন্দি থাকা আব্দুল আলিম। পরবর্তীতে কারাগার ভাংচুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলার ৫১ নম্বর আসামী সে। আত্মগোপনে থেকেও ২০২৫ সালের ২৪ আগষ্ট কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমি সংক্রান্ত একটি মামলা করেন। ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অনুপস্থিত থেকেও মামলাটি পরিচালনা করছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন করার জন্য গেল বুধবার (১২ আগষ্ট) কলারোয়া ভূমি অফিসে যান। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসংক্রান্ত বিষয়ে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি ফিরে আসেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। টানা তিন ঘন্টা অপেক্ষার পর জেলা প্রশাসকের কক্ষে পৌঁছানোর সুযোগ পান। জেল পলাতক হত্যা মামলার আসামী কিভাবে ভূমি অফিসে মামলা চালিয়ে যান-এমন প্রশ্ন করতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন ডিসি। ক্যামেরা সামনে কথা বলা তো দূরের কথা, ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি আড়াল করতে সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের সরকারের বৃক্ষরোপন প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় প্রতিবেদন করায় শাসাতে থাকেন। এক পর্যায়ে যমুনা টিভিতে চাকরি কিভাবে করেন সেটি দেখে নেবেন বলেও দম্ভোক্তি করতে থাকেন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ভ হন যমুনা টিভির এই প্রতিবেদক। ঘটনা এখানেই থেমে যায়নি। কক্ষে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার জেলা প্রশাসকের অপেশাদার ও খারাপ ব্যবহারের ভিডিও ধারণ হয়েছে কিনা সেটি যাচাই করতে ক্যামেরাপার্সন ইয়ারুল ইসলামকে ক্যামেরা চেক করতে বাধ্য করেন।
সভায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান বলেন, গেল ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা করেন এনডিসি তাজুল ইসলাম। তথ্য চাইতে তাঁর কাছে ফোন করা হলে তিনি এসব নিউজ করা লাগবেনা বলে তথ্য প্রদান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এক পর্যায়ে এনডিসি সাংবাদিকের চেহারা দেখবেন বলে অফিসে আসতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে পরদিন জেলা প্রশাসকের কাছে যান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের পাল্টা ভৎর্সনা করেন জেলা প্রশাসক।
প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসাইন জানান, নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন দেন। ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া ডিসির কাজ নয় বলে তিনি ফোন রেখে দেন। একইভাবে খারাপ আচরণের শিকার মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ জেলায় দায়িত্বরত সাংবাদিকরা।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ সার্বিক বিষয়ে সংবাদ করতে গেলে অতীতের কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এমন অসহযোগিতা পাননি সাংবাদিকরা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এমনকি ডিসি বাংলো থেকে রাতে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক হলেন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি।বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহিতা। সাতক্ষীলা জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য ও গ্রহনযোগ্য নয়। আমরা এসব ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গেল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহার সামগ্রী দেয়ার সময় জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ রাজনৈতিক নেতাদের না ডাকায় সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সাতক্ষীরা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, মঞ্চে কাউকে না ডাকায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে আমরা সকলেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে আসি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: