infoamaderdin@gmail.com শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার এলেক্স ইমনকে হত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

এলেক্স ইমন হত্যা মামলায় বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ পাঁচজন গ্রেফতার

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মোহাম্মদপুরের আলোচিত এ হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি ও সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

গ্রেফতার পাঁচজন হলেন— মো. জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুল, হৃদয় (২৩), সুজন (২২), সোহেল ওরফে চায়না সোহেল (২৬) ও রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী (২২)। শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়ন ও খোলামোড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। শাক্তা ইউনিয়নের কোলচর এলাকা থেকে হৃদয়কে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। একই এলাকা থেকে সুজন ও সোহেল ওরফে চায়না সোহেলকে দুটি তরবারি ও তিনটি সামুরাইসহ গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া খোলামোড়া টাউন এলাকা থেকে রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীকে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি সামুরাইসহ গ্রেফতার করা হয়।’

র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, ‘রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের আলোচিত এলেক্স ইমন হত্যা মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়। মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-২। এ পর্যন্ত এলেক্স ইমন হত্যা মামলায় পাঁচজন এজাহারনামীয় আসামি ও পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, দস্যুতা, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে পাঁচটি এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে। সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির সাতটি এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে। সোহেল ওরফে চায়না সোহেলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চারটি মামলা রয়েছে। হৃদয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও খুনের দুটি এবং ইটনা থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে। রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দুটি মামলা রয়েছে।’

র‌্যাব-২ অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় গত ১২ এপ্রিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার এলেক্স ইমনকে হত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ আগষ্ট ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম

এলেক্স ইমন হত্যা মামলায় বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ পাঁচজন গ্রেফতার

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মোহাম্মদপুরের আলোচিত এ হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি ও সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

গ্রেফতার পাঁচজন হলেন— মো. জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুল, হৃদয় (২৩), সুজন (২২), সোহেল ওরফে চায়না সোহেল (২৬) ও রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী (২২)। শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়ন ও খোলামোড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। শাক্তা ইউনিয়নের কোলচর এলাকা থেকে হৃদয়কে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। একই এলাকা থেকে সুজন ও সোহেল ওরফে চায়না সোহেলকে দুটি তরবারি ও তিনটি সামুরাইসহ গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া খোলামোড়া টাউন এলাকা থেকে রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীকে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি সামুরাইসহ গ্রেফতার করা হয়।’

র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, ‘রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের আলোচিত এলেক্স ইমন হত্যা মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়। মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-২। এ পর্যন্ত এলেক্স ইমন হত্যা মামলায় পাঁচজন এজাহারনামীয় আসামি ও পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, দস্যুতা, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে পাঁচটি এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে। সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির সাতটি এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে। সোহেল ওরফে চায়না সোহেলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চারটি মামলা রয়েছে। হৃদয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও খুনের দুটি এবং ইটনা থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে। রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দুটি মামলা রয়েছে।’

র‌্যাব-২ অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় গত ১২ এপ্রিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর