আশ্বাসের পরও রক্ষা হলো না ‘ভোরের পাখি’ স্কুল
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয়ের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রেণিকক্ষও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে আশ্বাস দিলেও বিদ্যালয় রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতকালও ক্লাস হয়েছে। ভোরে পরিস্থিতি দেখে এটিও স্যারকে জানাই। পরে ১৪ জন শ্রমিক দিয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছি। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে চলে গেছে। অনেক কর্মকর্তা এসেছেন, কিন্তু আমরা শুধু আশ্বাসই পেয়েছি।”
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন বলেন, ভাঙনের বিষয়টি শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ এ পরিস্থিতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ ছিল না।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: