বকশীগঞ্জে স্ত্রীকে আনতে গিয়ে মারধরের শিকার স্বামী, হাসপাতালে ভর্তি
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের সারমারা গ্রামের ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন জসিম মিয়া নামে এক যুবক। আহত অবস্থায় তাকে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারমারা গ্রামের শাহা আলমের মেয়ে সুখী আক্তারের সঙ্গে টালিয়াপাড়া বেপারীপাড়া গ্রামের মোঃ মুনু মিয়ার ছেলে জসিম মিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং সুখী আক্তারের অন্যত্র বিয়ে হয়।
তবে ওই বিয়ে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি বলে জানা গেছে। পরে সুখী আক্তার ও জসিম মিয়া পুনরায় একসঙ্গে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রায় সাত মাস আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার গড়ে তোলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি জসিম মিয়া তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে সারমারা গ্রামে গেলে সুখী আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুখীর বাবা ও ভাই তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত জসিম মিয়াকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার স্বজনরা তাকে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, পুনরায় একত্রিত হয়ে সংসার গঠন এবং পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহা আলম বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় এমন সংঘাত আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: