infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইয়ামিন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

সাভারে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৯ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের ওপর আজই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার সাতজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন এবং কনস্টেবল মাসুদ মিয়া।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার মধ্যে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে গিয়ে তার বুকে গুলি করা হয়। গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পরও তাকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রেখে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গাড়িটি বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। পরে প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এক পুলিশ সদস্যকে তার পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে গুলি না করে তাকে সড়কের বিভাজকের পাশে ফেলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে প্রবেশ করেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


ইয়ামিন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

সাভারে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৯ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের ওপর আজই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার সাতজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন এবং কনস্টেবল মাসুদ মিয়া।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত আসহাবুল ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার মধ্যে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে গিয়ে তার বুকে গুলি করা হয়। গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পরও তাকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রেখে ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গাড়িটি বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। পরে প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এক পুলিশ সদস্যকে তার পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে গুলি না করে তাকে সড়কের বিভাজকের পাশে ফেলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে প্রবেশ করেছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর