infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ইসির পরবর্তী সভায়, ৯০ দিনের মধ্যে ভোট বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী রোববার (২৬ জুলাই) অথবা পরবর্তী কমিশন সভায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শনিবার (২৫ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ সাংবিধানিকভাবে শূন্য হয়েছে।

গুরুতর অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শরীরে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শনিবার ইসির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামী রোববার অথবা পরবর্তী কমিশন সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যেভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে সংসদ সচিবালয় থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ করা হবে। এরপর ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হতে হবে না, তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

বিশেষজ্ঞদের মত

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি দলীয় সমর্থনে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস

স্বাধীনতার পর দেশে এটি হবে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালে একমাত্র গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনসহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ইসির পরবর্তী সভায়, ৯০ দিনের মধ্যে ভোট বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী রোববার (২৬ জুলাই) অথবা পরবর্তী কমিশন সভায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শনিবার (২৫ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ সাংবিধানিকভাবে শূন্য হয়েছে।

গুরুতর অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শরীরে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শনিবার ইসির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামী রোববার অথবা পরবর্তী কমিশন সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যেভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে সংসদ সচিবালয় থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ করা হবে। এরপর ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হতে হবে না, তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

বিশেষজ্ঞদের মত

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি দলীয় সমর্থনে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস

স্বাধীনতার পর দেশে এটি হবে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালে একমাত্র গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনসহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর