infoamaderdin@gmail.com সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাথরুমে সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগার (বাথরুম) ও একটি পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন এবং চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে বিষয়টি সামনে আসার পরদিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচালিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধ (সিলগালা) করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান।

পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় পরিচালক জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং খাবারের মান সম্পর্কে সরাসরি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষিত প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ওষুধ যথাযথ নিয়মে অপসারণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার ঘটনায় তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে বিকেলে হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বন্ধ করার নির্দেশ দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

এর আগে শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। প্রায় দুই ঘণ্টার ওই পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ ও শৌচাগারে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই-সিরিঞ্জসহ বিপুল পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাথরুমে সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১২:০৭ পিএম

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগার (বাথরুম) ও একটি পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন এবং চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে বিষয়টি সামনে আসার পরদিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচালিত একটি বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধ (সিলগালা) করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান।

পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় পরিচালক জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং খাবারের মান সম্পর্কে সরাসরি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষিত প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ওষুধ যথাযথ নিয়মে অপসারণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার ঘটনায় তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে বিকেলে হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বন্ধ করার নির্দেশ দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

এর আগে শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। প্রায় দুই ঘণ্টার ওই পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ ও শৌচাগারে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই-সিরিঞ্জসহ বিপুল পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর