infoamaderdin@gmail.com বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সোনালি আঁশে স্বপ্ন বুনছেন বকশীগঞ্জের কৃষক, ভালো ফলন ও দামে বাড়ছে আশার আলো

মোঃ খোরশেদ আলম প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সোনালি আঁশের উৎসব। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন এবং তুলনামূলক ভালো বাজারদরে কৃষকদের মধ্যে ফিরেছে নতুন আশাবাদ। উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে দোল খাওয়া পাটখেত এখন কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। ফলে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজে। খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে সারি সারি পাটের আঁটি জাগ দেওয়ার দৃশ্য জানান দিচ্ছে মৌসুমের ব্যস্ততার কথা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। বাকি ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ চলমান রয়েছে। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার পাটে রোগবালাই কম হয়েছে এবং ফলনও বেশ সন্তোষজনক। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারদর আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।

একই কথা জানিয়েছেন বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী বছর পাটের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারদর আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেলে সোনালি আঁশ তাদের মুখে আরও বড় হাসি ফোটাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বকশীগঞ্জে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই সোনালি আঁশ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


সোনালি আঁশে স্বপ্ন বুনছেন বকশীগঞ্জের কৃষক, ভালো ফলন ও দামে বাড়ছে আশার আলো

মোঃ খোরশেদ আলম

প্রকাশিত: ০৫ আগষ্ট ২০২৬ ১৩:০৮ পিএম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সোনালি আঁশের উৎসব। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন এবং তুলনামূলক ভালো বাজারদরে কৃষকদের মধ্যে ফিরেছে নতুন আশাবাদ। উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে দোল খাওয়া পাটখেত এখন কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। ফলে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজে। খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে সারি সারি পাটের আঁটি জাগ দেওয়ার দৃশ্য জানান দিচ্ছে মৌসুমের ব্যস্ততার কথা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। বাকি ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ চলমান রয়েছে। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার পাটে রোগবালাই কম হয়েছে এবং ফলনও বেশ সন্তোষজনক। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারদর আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।

একই কথা জানিয়েছেন বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী বছর পাটের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারদর আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেলে সোনালি আঁশ তাদের মুখে আরও বড় হাসি ফোটাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বকশীগঞ্জে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই সোনালি আঁশ।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর